সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ধর্ম, মন্দির এগুলি আগামীতে চাকরির ক্ষেত্র তৈরি করবে না। একমাত্র বিজ্ঞানই ভবিষ্যৎ গড়বে। সেজন্য নয়া কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও ছাত্রদেরই তৈরি করতে হবে। গুজরাটের গান্ধীনগরের করনাবতী বিশ্ববিদ্যালয়ের যুব সংসদে যোগ দিতে এসে পড়ুয়াদের উদ্দেশ্য একথাই বললেন দেশের অন্যতম প্রযুক্তিবিদ স্যাম পিত্রোদা।
[সহায় আরপিএফ, চলন্ত ট্রেনে যমজ সন্তানের জন্ম দিলেন প্রসূতি]
কর্মসংস্থান ও উদ্যোগ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্যাম পিত্রোদা দেশের রাজনীতিকদের উপরে ক্ষোভ উগরে দেন। রীতিমতো অভিযোগ করে বলেন, ‘এখন তো আর কর্মসংস্থান নিয়ে কোনও কথাবার্তা হয় না। দেশের কর্মক্ষেত্রের পরিস্থিতি জানতে চাইলে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ খুঁজে বের করে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোচনায় অযথা আকাশকুসুম গল্প বলতে শুরু করেন রাজনীতিকরা। যখনই দেখি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্ম, জাতি, ঈশ্বর নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। তখন বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ি। মন্দির কিন্তু নয়া কর্মসংস্থান দেবে না। কেবলমাত্র বিজ্ঞানই ভবিষ্যৎ গড়বে। যদিও আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় বিজ্ঞান আলোচনার জন্য খুবই সংকীর্ণ পরিসর পড়ে থাকে। দেশের মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। এরজন্য দায়ী প্রধানত রাজনীতিবিদরা। তাঁরা দেশবাসীর সামনে গুরুত্বহীন বক্তব্য রেখে তাদের ভুল পথে চালিত করছেন।’
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে রাজনীতিবিদদেরও একহাত নেন এই প্রযুক্তিবিদ। বলেন, ‘আমাদের দেশে শুধু গুরুত্বহীন বিষয়কেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আর তাই নিয়েই চলে আলোচনা। এই ঘটনায় আমি যারপরনাই বিরক্ত। যত আজেবাজে বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে দেশের তরুণ সমাজকে আমরা প্রতিদিন ভুল পথে চালিত করছি। আমরা তাদের বাস্তবটা বোঝাচ্ছি না। রীতিমতো মিথ্যে বলছি। এটা দুঃখজনক হলেও সত্যি যে বেশিরভাগ দেশ নেতারা যা বলেন তা আসলে অকাজের কথা। আসলে তাঁরা বাস্তবটাকে এড়িয়ে থাকতে পছন্দ করেন। বক্তৃতা দেওয়া ছাড়া জীবনে তাঁরা আর কিছু অর্জন করতে পারেননি। তাঁর আর যাই হোক দেশের যুব সমাজকে পথ দেখানোর মতো যোগ্যতাসম্পন্ন নন।’
[বাইকে ধাক্কা সুইফটের, ছিটকে পড়া আরোহীকে ৩০০ মিটার টেনে নিয়ে গেল গাড়ি]
এই মুহূর্তে কর্মসংস্থানের দুনিয়ায় নানা পরিবর্তন ঘটে চলেছে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ঝড়ের গতিতে হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে নয়া কর্মস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করাটা রীতিমতো চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়াবে। সেই জন্যই ছোট পরিসরে উদ্ভাবনী ক্ষমতার দিকে নজর দিতে হবে। রোবটিক্স, ডেটা অ্যানালিসিসের মতো প্রযুক্তি এখন জলভাতের পর্যায়ে নেমে এসেছে। তাই নতুন কর্মসংস্থান নিয়ে ভাবার সময় চলে এসেছে। ছাত্রদের একেবারে অন্যরকম কিছু ভাবার কথা বলেছেন স্যাম পিত্রোদা। এমনকিছু, যা পড়ুয়াদের বাবা-মা, শিক্ষক শিক্ষিকা বা দেশের তথাকথিত নেতারা ভেবে উঠতে পারেননি। যেখানে তাঁদের ভাবনা এসে থেমে গিয়েছে সেখান থেকেই নতুন ইতিবাচক ভাবনা শুরু করুক দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। এমনটাই চাইছেন তিনি।
নয়া কর্মসংস্থান সম্পর্কে বলতে গিয়ে স্যাম পিত্রোদা বলেন, ‘আগামীর কর্মসংস্থান সম্পর্কে আমরা তেমনভাবে ভাবছি না। তবে ভবিষ্যতে ক্ষুদ্র উদ্যোগপতিদের একটা চাহিদা থাকবে। আগামী দশ বছরে টেলিকমিউনিকেশনে বিপ্লব আসবে। আগামী ২০ বছরের মধ্যে যোগযোগ ব্যবস্থা উন্মুক্ত হয়ে যাবে। সেকথা মাথায় রেখেই আমাদের কর্মসংস্থানের কথা ভাবতে হবে। ফেলে আসা মনোভাবকে আঁকড়ে থাকলে চলবে না। আরও বেশি উদ্ভাবনী শক্তির দিকে বিশ্ব এগোচ্ছে। যারফলে দশটা পাঁচটার ডিউটি ভুলে যাওয়ার সময় পাকাপাকিভাবে চলে আসছে। যে কোনও জায়গা থেকে যেকোনও সময় কাজ করাই হবে আগামীর ভবিষ্যৎ।’