ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: পিনারাই বিজয়ের একচেটিয়া ‘আধিপত্যে’ বিরক্ত হয়ে সিপিএম ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে এসেছিলেন কেরলের নীলাম্বুরের সিপিএম বিধায়ক পিভি আনভার। তাঁকেই কেরলের উপনির্বাচনে প্রার্থী করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। রবিবার দলের সোশাল মিডিয়া পেজে এই সংক্রান্ত খবর ঘোষণা করা হয়েছে। নিজের কেন্দ্র নীলাম্বুরেই লড়বেন পিভি আনভার। আগামী ১৯ জুন উপনির্বাচন, ২৩ তারিখ ফলপ্রকাশ।
ঠিক মাস ৬ আগে, জানুয়ারিতে দলবদল করেছিলেন পিভি আনভার। কেরলের রাজনৈতিক অন্দরে পরিচিত মুখ পিভি আনভার শুরুতে সিপিএমেই ছিলেন। ভোটে জিতে বিধায়কও হন। তারপর পিনারাই বিজয়নের সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি নিয়ে সরব হন তিনি। আর তাতেই শাসকদলের রোষানলে পড়েন। পিনারাই বিজয়ন সরকার তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এরপর নীলাম্বুর কেন্দ্র থেকে নির্দল হিসেবে ভোটে লড়ে জেতেন। শোনা যায়, কেরলের কমিউনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করতে গত বছর থেকেই তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন পিভি আনভার। সেইমতো গত ১০ জানুয়ারি থেকে তাঁর নতুন পরিচয় হয় কেরলের একমাত্র তৃণমূল নেতা হিসেবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে ঘাসফুল শিবিরের উত্তরীয় পরে, পতাকা হাতে দলে যোগ দেওয়ার পর তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল, ”পিনারাই জমানার শেষ দেখতে চাই।”

বাম বিরোধী অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ আনভারকে বড় দায়িত্ব দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। দক্ষিণ ভারতে তৃণমূলের সংগঠন বিস্তারে আহ্বায়ক পদে বসানো হয় তাঁকে। আর ছ’মাস পর কেরল উপনির্বাচনে তাঁকেই প্রার্থী করা হল। রবিবার সোশাল মিডিয়ায় তা ঘোষণা করা হয়েছে। আনভার জিতলে এই প্রথম দাক্ষিণাত্যে ফুটবে ঘাসফুল।