সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গোহত্যার প্রতিবাদ করায় মন্দিরের মধ্যেই কুপিয়ে খুন করা হল দুই সাধুকে। নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের আউরাইয়া জেলায়। ঘটনার প্রবল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। শুরু হয়েছে প্রবল বিক্ষোভ। একাধিক দোকানে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী।
[বাজপেয়ীর শারীরিক অবস্থার অবনতি, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে মোদি]
আউরাইয়ার পুলিশ সুপার রাজেশ কুমার সাক্সেনা জানান, বুধবার গভীর রাতে কুদারকোট এলাকার ভয়ানকনাথ মন্দিরে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তিন সাধুকে। প্রত্যেকের শরীরে রয়েছে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন। তাঁদের বিছানার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। হাসপাতালে নিয়ে গেলে দুই সাধুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তৃতীয় জনের অবস্থা সংকটজনক। মৃতদের নাম লজ্জা রাম (৬৫) ও হলকে রাম (৫৩)। তাঁদের বাড়ি এটা জেলার বাকেওয়ার এলাকায়। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের আইজি জানান, ওই এলাকায় প্রায়ই গোহত্যার মতো ঘটনা ঘটে। এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন আক্রান্তরা। ঘটনার নেপথ্যে এটিও একটি কারণ হতে পারে। তবে সমস্ত দিকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শীঘ্রই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হবে।
[অত্যাধুনিক ট্রেন আনতে চলেছে রেল, কাজ হারানোর আশঙ্কায় ভুগছেন কর্মীরা]
ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অপরাধীদের দ্রুত পাকড়াও করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যসচিব ও ডিজিপিকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যোগী। এছাড়াও মৃতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ ও আহতের পরিবারের জন্য ১ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যে কানপুর থেকে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ দল রওনা দিয়েছে। স্থানীয় পুলিশকে তদন্তে সাহায্য করবেন তাঁরা। হত্যাকাণ্ডের খবর চাউর হতেই প্রবল উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। রাস্তায় নেমে পড়ে উন্মত্ত জনতা। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় একাধিক দোকান ও বাড়িতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী।
[মিষ্টির বিনিময়ে বুলেট, স্বাধীনতা দিবসে কাশ্মীরে বোমাবর্ষণ পাক সেনার]