সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: যাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল উন্নাওয়ের ধর্ষিতার নিরাপত্তার ভার। সেই নিরাপত্তারক্ষীরাই জেলবন্দি বিধায়কের কাছে ধর্ষিতার সমস্ত খবর পৌঁছে দিতে বলে অভিযোগ উঠছে। সোমবার পুলিশের কাছে এই বিষয়ে একটি এফআইআরও দায়ের করেছেন মেয়েটি কাকা। রবিবার নির্যাতিতা যে পরিবারের লোকেদের সঙ্গে রায়বরেলি জেলে যাচ্ছেন সেই খবরও পৌঁছে দিয়েছিল বলে অভিযোগ। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
[আরও পড়ুন: চন্দ্রযান মিশনের মধ্যেই ইসরোর বিজ্ঞানীদের বেতন কমিয়েছে কেন্দ্র!]
উত্তরপ্রদেশের বানগেরমাউ বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলার পরেই প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তাই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছিলেন ধর্ষিতা। কিন্তু, সেই রক্ষীরা অভিযুক্ত বিধায়ক এবং তাঁর সঙ্গীদের মেয়েটি ও তাঁর পরিবারের সমস্ত খবর পৌঁছে দিত বলে অভিযোগ উঠছে। গত রবিবার রায়বরেলি যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় আহত হন ধর্ষিতা ও তাঁর আইনজীবী। মৃত্যু হয় তাঁর দুই আত্মীয়ের। এই দুর্ঘটনার সময় ধর্ষিতার নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁর সঙ্গে ছিল না।
এপ্রসঙ্গে ওই নিরাপত্তা রক্ষীদের একজন সুরেশ বলেন, “কাকিমা আমাদের বলেছিলেন গাড়িতে জায়গা হচ্ছে না। তাই তোমাদের যেতে হবে না। তাছাড়া পাঁচজন একসঙ্গে যাচ্ছে ফলে ভয়ের কিছু নেই। ওরা সন্ধের মধ্যেই ফিরে আসবে।”
[আরও পড়ুন: নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা! নিখোঁজ ‘ক্যাফে কফি ডে’র প্রতিষ্ঠাতা]
এর আগে সোমবার ধর্ষিতার মা অভিযোগ করেন, কুলদীপ সেঙ্গার ও তাঁর সঙ্গীরা এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। ওই বিধায়ক জেলবন্দি থাকলেও ফোনের মাধ্যমে সব খবর রাখছিলেন। ধর্ষণের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপও দিচ্ছিলেন। বিধায়কের মদতে এক অভিযুক্তের ছেলে শাহি সিং ও গ্রামের এক যুবক ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছিল। এরপরই দুর্ঘটনা ঘটে গেল। এটা ওই বিধায়কই করিয়েছে।
ইতিমধ্যেই এই দুর্ঘটনাকে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা বলে অভিযোগ করা হয়েছে ধর্ষিতার পরিবারের তরফে। দাবি করা হয়েছে সিবিআই তদন্তের। সেই দাবি মেনে নিয়েছে যোগী প্রশাসনও। এদিকে দুর্ঘটনার পর গোটা দেশজুড়ে অভিযুক্ত বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠছে। সংসদের ভিতরে ও বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিজেপি বিরোধী সাংসদরা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব কিংবা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন সবাই। এর মাঝেই মঙ্গলবার ঘাতক ট্রাকটি সমাজবাদী পার্টির এক নেতা নন্দু পালের ছোট ভাই দেবেন্দ্র পালের বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি ওই গাড়িটির চালক ইচ্ছে করে ধর্ষিতাদের গাড়িতে ধাক্কা মেরেছে বলেও দাবি করেছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী।