সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অযোধ্যার বিতর্কিত ভূখণ্ডে রাম লালা মন্দিরে পুজো দিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বুধবার বিতর্কিত রাম জন্মভূমিতে প্রায় ১০ মিনিট ধরে পুজো দিলেন যোগী। এর আগে ২০০২ সালে শেষবার রাজনাথ সিং মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন রাম লালা মন্দিরে পুজো দিয়েছিলেন। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর রাজনাথই ছিলেন প্রথম মুখ্যমন্ত্রী যিনি রাম লালা মন্দিরে দর্শন করতে গিয়েছিলেন। রাজনাথের পর যোগী হলেন দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী যিনি বিতর্কিত ভূখণ্ডে পা রাখলেন। মাঝে ১৫ বছর কোনও মুখ্যমন্ত্রীই বিতর্কিত ভূখণ্ডে যাওয়ার সাহস দেখাননি। এদিন যোগী অযোধ্যার অন্যতম হনুমানগ্রাহী মন্দিরেও পুজো দেন।
[আধুনিক মহাভারতের রাজপুত্র জুয়ায় খোয়ালেন পাঁচ বউকে]
এর আগে মঙ্গলবার বাবরি মসজিদ ভাঙা নিয়ে মামলার শুনানিতে লখনউতে হাজির হয়েছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। তাঁদের সকলের সঙ্গে দেখা করেন যোগী। ভিভিআইপি গেস্ট হাউসে লালকৃষ্ণ আদবানিকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনাও জানিয়েছিলেন তিনি। তাই যোগীর রামমন্দির–বাবরি মসজিদ নিয়ে সক্রিয়তা কারও নজর এড়াচ্ছে না। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, মঙ্গলবারই বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় জামিন পেয়েছেন প্রবীণ বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবানী, মুরলীমনোহর জোশী-সহ ৯ অভিযুক্ত। ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁদের জামিন দিয়েছে লখনউয়ের বিশেষ সিবিআই আদালত। তারপরই যোগীর রাম লালা মন্দিরে পুজো দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে। গোরক্ষনাথ মন্দিরের মহন্ত যোগী আদিত্যনাথের উগ্র হিন্দুত্ববাদ নিয়ে এর আগেও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সব ধর্ম সমন্বয়ের কথাই বলেন যোগী।
[টেলিশপিংয়ের নামে ‘সেক্স চ্যাট’ ও দেহ ব্যবসা, ফাঁস প্রতারণা চক্র]
জানা গিয়েছে, বুধবার দিগম্বর আখাড়ায় যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। এই আখাড়ার প্রাক্তন মহন্ত রামচন্দ্র পরমহংস অযোধ্যা আন্দোলনের পুরোধা ছিলেন। রাম মন্দির নির্মাণের জন্য শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন মহন্ত রামচন্দ্র। শুধু তাই নয়, যোগীর গুরু মহন্ত অবৈদ্যনাথ এবং পরমহংস বহু বছর একসঙ্গে অযোধ্যা আন্দোলনকে সফল করার প্রয়াস চালিয়ে গিয়েছেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের গঠিত রাম মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারপার্সন ছিলেন মহন্ত অবৈদ্যনাথ। তাহলেই বোঝা যাচ্ছে, রাম লালা মন্দির নিয়ে যোগীর আগ্রহ কেন! থাকবে নাই বা কেন, ২০০২ সালে পরমহংসের আহ্বানেই গোরখপুরের সাংসদ যোগী অযোধ্যায় মিছিল করে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তখন পুলিশ তাঁকে বাধা দেয় এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করে। যদিও এই মন্দিরে পুজো দেওয়ার বিষয়ে যোগীর আমলারা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। যোগীর এই রাম লালা মন্দির দর্শন নিঃসন্দেহে রাম মন্দির ইস্যুকে নয়া মাত্রা দেবে তা বলাই বাহুল্য।