Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬

ডাক্তারিতে ভর্তির চক্র ফাঁস আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে

ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হতে এসে ধরা পড়ল ভিনরাজ্যের দুই ছাত্রী!

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৬, ১০:১৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৬, ১০:১৯

options
link
ডাক্তারিতে ভর্তির চক্র ফাঁস আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে zoom

গৌতম ব্রহ্ম: ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হতে এসে ধরা পড়ল ভিনরাজ্যের দুই ছাত্রী৷ দু’জনেই রাজস্থানের বাসিন্দা৷
ঘটনাস্থল কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল৷ এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির কাউন্সেলিং চলছিল৷ সেখানেই যোগ দিতে আসে ওই দুই ছাত্রী৷ সঙ্গে ছিলেন দু’জনেরই বাবা৷ কাউন্সেলিংয়ের সময় ওই দুই ছাত্রীর কাগজপত্র পরীক্ষা করে চমকে যান আরজি করের আধিকারিকরা৷ দেখেন, মার্কশিট, হস্টেল অ্যালটমেন্ট, সিট অ্যালটমেন্ট-সহ সবই জাল কাগজপত্র৷ সঙ্গে সঙ্গেই টালা থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হয়৷ তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, সাড়ে ২২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কলকাতার একটি ‘এজেন্সি’ এই কাগজপত্র তৈরি করে দিয়েছে৷ দু’জন ছাত্রীকেই টালা থানা আটক করেছে৷ জালিয়াতির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন ডিসি (নর্থ) শুভঙ্কর সিনহা৷ জানিয়েছেন, রাজস্থানের দুই ছাত্রী ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে ভর্তি হতে এসেছিল৷ ভুয়া কাগজপত্রগুলি সব আটক করা হয়েছে৷ কিন্তু ছাত্রীদের গ্রেফতার করা হয়নি৷
এই ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যকর্তারা৷ রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা (শিক্ষা) ডা. সুশান্ত বন্দ্যেপাধ্যায় জানিয়েছেন, জাল কাগজপত্র নিয়ে আরজি করে ভর্তি হতে এসেছিল দুজন ছাত্রী৷ দু’জনকেই পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে৷ কলেজ সূত্রের খবর, ওই দুই অভিযুক্ত ছাত্রীর নাম শুভাঙ্গিনী ও প্রাচী জৈন৷
ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছে আরজি কর কর্তৃপক্ষও৷ কলেজের অধ্যক্ষ ডা. শু‌দ্ধোদন বটব্যাল বলেন, “ভর্তি হতে গেলে মার্কশিট, ব়্যাঙ্ক কার্ড-সহ একাধিক কাগজপত্র দরকার৷ সবই জাল করেছিল ওই দু’জন৷ এমনকী হস্টেল ও সিট অ্যালটমেন্টের জাল কাগজও তৈরি করেছিল৷” জেরার মুখে দুই ছাত্রী জানিয়েছে, ফোনে কলকাতার এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়৷ ওই ব্যক্তি নিজেকে আরজি করের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে ভর্তির প্রতিশ্রুতি দেয়৷ সেই কথায় বিশ্বাস করে ওই দুই ছাত্রী ওই ব্যক্তির একটি অ্যাকাউন্টে ৫০ হাজার টাকা জমা করে৷ কথা ছিল, ভর্তির পর ২২ লক্ষ টাকা করে দেবে ছাত্রীরা৷ জানা গিয়েছে, ওই অ্যাকাউন্টটি ভুবনেশ্বরের৷
গত বছর বাঁকুড়া সম্মিলনী কলেজে ঝাড়খণ্ডের একটি ছাত্র জাল কাগজপত্র নিয়ে ভর্তি হতে এসে ধরা পড়ে৷ সেবার বাঁকুড়ার ডিন-সহ দু’জন আধিকারিকের সই ও স্ট্যাম্প জাল করেছিল ওই ছাত্র৷ এবারও প্রায় সেই পথেই হেঁটেছিল রাজস্থানের দুই ছাত্রী৷ যদিও একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি৷ শুধু জানা গিয়েছে, ওই দুই ছাত্রীর একজন ‘নিট’-এর মেধাতালিকায় নিচের দিকে জায়গা পেয়েছিল৷
আন্দামান, নাগাল্যান্ড, মণিপুর-সহ বেশ কয়েকটি প্রান্তিক রাজ্য ছাড়া সর্বত্রই অনলাইন কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ডাক্তারিতে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হয়৷ এই রাজ্যগুলির ছাত্রছাত্রীদের ‘অফলাইন কাউন্সেলিং’-এর সুযোগ রয়েছে৷ রাজস্থান অবশ্য এই তালিকায় পড়ছে না৷ জানা গিয়েছে, রাজ্য জয়েন্টের মাধ্যমে এ রাজ্যের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ৮৫ শতাংশ আসনে ছাত্র ভর্তি নেয়৷ ১৫ শতাংশ আসনে ‘নিট’-এর মেধাতালিকায় থাকা ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হয়৷ চলতি বছরে এদিন ছিল রাজ্য জয়েন্টের মাধ্যমে ভর্তির শেষ দিন৷ ‘নিট কোয়ালিফাই’ করা ছাত্রাছাত্রীদের জন্য অনলাইন কাউন্সেলিংয়ের শেষ তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর৷ সব ছাত্রছাত্রীকেই ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভর্তি করতে হবে, এটাই আদালতের সিদ্ধান্ত৷ জানা গিয়েছে, এদিন ওই দুই ছাত্রী ব্যাঙ্ক ড্রাফট ও ‘অরিজিনাল’ কাগজপত্র নিয়ে ভর্তি হতে এসেছিল৷ সমস্ত ভুয়া কাগজপত্র মেলের মাধ্যমে ওই ব্যক্তির থেকে ছাত্রীরা পেয়েছিল৷ শু‌দ্ধোদনবাবু বলেন, “কাগজপত্র দেখেই আমাদের সন্দেহ হয়েছিল৷ তাই ডেকে পাঠিয়েছিলাম৷ কাউকে ধরতে গেলে তো প্রমাণ চাই৷”

Advertisement
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.