ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: গত লোকসভা নির্বাচনের সময় বিজেপির মিছিলে অশান্তির জেরে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনার স্মৃতি এখনও টাটকা কলকাতাবাসীর। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রয়াণ দিবসে টুইট করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (Amit Shah) সেকথাই ফের মনে করিয়ে দিলেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সেইসঙ্গে বিদ্যাসাগরকে প্রতীকী সম্মান দেখানো বন্ধ হোক বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল সাংসদ। কারণ, সেদিন অমিত শাহর মিছিল থেকেই গন্ডগোলের সূত্রপাত হয়। তারপর বিদ্যাসাগর কলেজে ঢুকে বাংলার মনীষীর মূর্তি ভাঙার অভিযোগ ওঠে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
আজ, ২৯ জুলাই বিদ্যাসাগরের প্রয়াণ দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে টুইট করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তারপর শাহের টুইট উদ্ধৃত করেই নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে অভিষেক কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেন। লেখেন, ‘বিদ্যাসাগর মহাশয় একজন মহান সমাজ সংস্কারক ছিলেন। তাঁর ধর্মনিরপেক্ষ, মুক্তচিন্তা, আজও আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। যে অমিত শাহর সভায় যোগ দিতে আসা বিজেপির কর্মী সমর্থকরা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিলেন তাঁর এই ধরনের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন বিদ্রুপের সমান। এমন ক্ষুদ্র পোস্ট করে বিদ্যাসাগরকে প্রতীকী সম্মান দেখানো বন্ধ হোক।’ এই টুইট থেকে ফের একবার সেদিনের ক্ষত উসকে দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ।
Ishwar Chandra Vidyasagar was a great social reformer who still stands tall as an inspiration for secular, free-thinking society. Ironic how @AmitShah ji had scant regard for Vidyasagar’s values when his men vandalised the latter’s bust. Please drop this facade of petty tokenism! https://t.co/9hDynW6i9y
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) July 29, 2020
[আরও পড়ুন: নিমতলাতেই হয়েছিল সৎকার, মৃত্যুর ১২৯ বছর পর শ্মশানে বসল বিদ্যাসাগরের স্মৃতিফলক]
এদিন প্রথমে অমিত শাহ টুইট করে বিদ্যাসাগরের পুণ্যতিথিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখেন, ‘একজন স্বনামধন্য সমাজ সংস্কারক, বাংলার নবজাগরণের এক স্তম্ভ, নারীশক্তির বিকাশে বড় ভূমিকা গ্রহণ করে সমাজের বহু শত্রুকে বিনাশ করার জন্য নিরলস পরিশ্রম করেন। তিনি বিধবা বিবাহ প্রথা চালু করে মহান কাজ করেছিলেন।’ কিন্তু গত বছর বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনায় অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও বিজেপির ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছিল অনেকটা। আর এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিজেপি বাঙালি বিরোধী দল হিসাবে তকমা দেওয়ার কাজ ত্বরাণ্বিত করেছিল তৃণমূল।