অর্ণব আইচ: গড়ফা থানার অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টরের মৃত্যু ঘিরে ক্ষোভ আছড়ে পড়ল থানার ভিতরেই। সোমবার সকালেই ওই এএসআইয়ের মৃত্যুর পর সহকর্মীদের অভিযোগ, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না করানোয় COVID-19’এ আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে থানার উদাসীনতার অভিযোগে পুলিশকর্মীদের একাংশ থানার মধ্যেই নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিলেন। সূত্রের খবর, পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন পুলিশের বড় কর্তারা।
ঘটনার সূত্রপাত দিন কয়েক আগে। গড়ফা থানার এক পুলিশ অফিসার করোনায় আক্রান্ত হন। তাঁর সংস্পর্শে আসা আরও ৪ জনকে হাওড়ার ডুমুরজলা স্টেডিয়ামে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। তাঁদেরও শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। প্রথমে সকলেরই করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। তবে রবিবার থেকে প্রবল শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকেন এক এএসআই। তড়িঘড়ি তাঁকে হাওড়া থেকে এমআর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করলেও, আমফানের তাণ্ডবে কলকাতার রাস্তাঘাটে গাছ পড়ে অবরুদ্ধ থাকায় কিছুটা প্রতিকূলতা তৈরি হয়। তা সত্ত্বেও যত দ্রুত সম্ভব ওই এএসআইকে বাঙুরে ভরতি করানো হয়। সূত্রের খবর, রাত থেকেই তাঁর অবস্থায় দ্রুত অবনতি হতে থাকে। আজ সকালে মৃত্যু হয় ওই অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টরের।
[আরও পড়ুন: ‘জীবনে প্রথম এরকম ইদ পালন দুঃখের’, আক্ষেপ ঝরে পড়ল ফিরহাদ হাকিমের গলায়]
এরপরই পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে ওঠে। তাঁর সহকর্মীদের দাবি, করোনা আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সময়মত সঠিক চিকিৎসা হলে, মৃত্যু এড়ানো যেত। এক্ষেত্রে থানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাঁরা ক্ষোভপ্রকাশ করতে থাকেন। দুপুর নাগাদ গড়ফা থানার মধ্যেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। লালবাজারের এক কর্তা জানিয়েছেন,ওই এএসআইয়ের নমুনা সংগ্রহ করে ফের করোনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, তার রিপোর্ট আসার অপেক্ষা করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, গড়ফা থানার ভিতরে বিক্ষোভ চলছে – এই খবর পেয়ে সেখানে যাচ্ছেন পুলিশের বড় কর্তারা।