বুদ্ধদেব সেনগুপ্ত: করোনায় আক্রান্ত শিলিগুড়ির বিধায়ক ও পুর প্রশাসক অশোক ভট্টাচার্যর (Ashok Bhattacharya) শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখছেন তিনি। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র ও বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীকে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বুধবার সর্বদলীয় বৈঠক শেষে নিজেই এই দুই সিপিএম নেতাকে ডেকে অশোকবাবুর প্রসঙ্গ তোলেন। প্রয়াত বিধায়ক তমোনাশ ঘোষের বিষয়ে বলতে গিয়েই মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বলেন, “তমোনাশের ঘটনা দুঃখজনক। তবে অশোক ভট্টাচার্য ভাল আছেন। আমরা তাঁর দিকে নজর রেখেছি। চিকিৎসাও ভাল হচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি উনি ভাল হয়ে যাবেন।” মুখ্যমন্ত্রী বাকি বাম নেতাদের সতর্ক ও সুস্থ থাকার পরামর্শ দেন বলে খবর।
প্রসঙ্গত, বেশ কয়েকদিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশিতে ভুগছিলেন অশোক ভট্টাচার্য। জানা গিয়েছিল, তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। হাসপাতালে চিকিৎসাও চলছিল তাঁর। তবে তিনি করোনাতেও আক্রান্ত হয়েছেন কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে। তাই কিছুদিন আগে তাঁর কোভিড টেস্ট করা হয়। তবে সেই সময় তাঁর রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। ১৬ জুন থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়। তাই মাটিগাড়ার নার্সিংহোমে আবারও তাঁর লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেখান থেকে নমুনা পরীক্ষার জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। ১৭ জুন রিপোর্ট আসে। তাতেই জানা যায় অশোক ভট্টাচার্য করোনা আক্রান্ত। বর্তমানে মাটিগাড়ার নার্সিংহোম থেকে তাঁকে কোভিড হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
[আরও পড়ুন: প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েই ৩১ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন বাড়াল রাজ্য]
উল্লেখ্য, বুধবারই করোনা আক্রান্ত হয়ে অ্যাপোলো হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের কোষাধ্যক্ষ তথা বর্ষীয়ান বিধায়ক তমোনাশ ঘোষ। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে তৃণমূল পরিবারে। শোকপ্রকাশ করেছেন ডান-বাম নির্বিশেষে সব দলের প্রতিনিধিরা। এদিন তাঁর মৃত্যুতে নবান্ন সভাঘরে সর্বদলীয় বৈঠক শুরুর আগে এক মিনিটের নীরবতা পালন করে শোক জানানো হয়। তাঁর মৃত্যুতে ব্যথিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই অশোকবাবুর স্বাস্থ্যের খোঁজ রাখছেন তিনি সর্বদা।