সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আন্তর্জাতিক শিশুপাচার কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত জুহি চৌধুরিকে নিয়ে এমনিতেই ঘরে-বাইরে সমালোচিত বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ও কটাক্ষ করলেন বিজেপির রাজ্য মহিলা মোর্চার সাধারণ সম্পাদিকাকে। সরাসরি জুহিকে কাঠগড়ায় তুলে বাবুলের মন্তব্য, তার লুকিয়ে থাকাটা আইনের চোখে উচিত নয়। বরং বাবুলের পরামর্শ, লুকিয়ে না থেকে সময় চেয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারতেন জুহি। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন। জুহির আত্মগোপনকে আইনত অন্যায় বলে অভিহিত করেছেন বাবুল। অন্যদিকে, এখনও জুহিকে অপরাধী মানতে রাজি নন মহিলা মোর্চার সভানেত্রী তথা রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। এদিন বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে রূপা জানিয়েছেন, ‘জুহির বয়স আমার মতো হতে ও লুকাতো না। বাচ্চা মেয়ে ভয়ে লুকিয়েছে। জানি না কে ওকে এই বুদ্ধি দিয়েছে।’ জুহি শাসকদলের চক্রান্তের শিকার বলে এদিন অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ‘ওঁকে ফাঁসানো হয়েছে।’
(শিশুপাচার কাণ্ডে নয়া মোড়, উদ্ধার হল রহস্যজনক তিন ডায়েরি)
প্রসঙ্গত, জলপাইগুড়িতে আন্তর্জাতিক শিশুপাচারের ঘটনায় যোগ পাওয়া যায় রূপা ঘনিষ্ঠ এই বিজেপি নেত্রীর। তারপর থেকেই তিনি আত্মগোপন করে রয়েছেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ঘরে-বাইরে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়ে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। এর আগে বিজেপি নেতা পেশায় চিকিৎসক দিলীপ ঘোষকে কলকাতায় শিশুপাচার কাণ্ডে গ্রেপ্তার করার পর সমালোচিত হয় বিজেপি। তখন তাকে দল থেকে বরখাস্ত করেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তবে এই ঘটনায় জুহির পাশেই দাঁড়িয়েছে রাজ্য নেতৃত্ব। কোনওমতেই জুহিকে দোষী মানতে রাজি নয় দল। কিন্তু এদিল শহরে এসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা বাবুল সুপ্রিয়র এমন মন্তব্যে নয়া জল্পনা দানা বেঁধেছে। জুহিকে নিয়ে রূপা ও বাবুলের ভিন্নমতে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। একইসঙ্গে, বেসরকারি হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা শোনা গিয়েছে বাবুলের গলায়। তবে তিনি এও বলেছেন, এমন বৈঠক সরকারি হাসপাতালগুলিকে নিয়েও করা উচিত। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা তৃণমূল স্তরে পৌঁছন উচিত বলে মনে করেন তিনি।