কলহার মুখোপাধ্যায়, বিধাননগর: গৃহবধূর রহস্যমৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়াল বাগুইআটি থানার তেঘড়িয়া এলাকায়। শনিবার সকালে বাড়ি থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই পলাতক মৃতার স্বামী।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত পাঁচ বছর ধরে তেঘড়িয়ার লোকনাথ মন্দির সংলগ্ন গোবিন্দ নিবাসে তিন ছেলে ও স্বামী কেড়ি যাদবের সঙ্গে ভাড়া থাকতেন ফুলদেবী। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে আগেই। শনিবার সকালে শোয়ার ঘরে খাটের উপরে মধ্য চল্লিশের মহিলাকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তাঁর ছেলেরা। তাঁর কান দিয়ে সেই সময় রক্ত পড়ছিল। কিন্তু বাড়িতে তখন কেড়ি যাদবকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঘটনার কথা জানতে পেরেই ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। ফুলদেবীর দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এরপর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পুলিশ জানায়, মৃতার গলায় ফাঁসের এবং শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। যে কারণে মনে করা হচ্ছে, স্বামীই গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করে পালিয়েছে।
[আরও পড়ুন: শহরের একাধিক হোটেলে জোর তল্লাশি রাজস্ব দপ্তরের, উদ্ধার বিপুল সোনা]
ওই এলাকাতেই একটি কচুরির দোকান রয়েছে কেড়ি যাদবের। কিন্তু ঘটনার পর থেকে সেই দোকানও বন্ধ। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, মাঝেমধ্যেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা হত। শুক্রবার রাতে স্বামী দেরি করে বাড়ি ফেরায় তাঁদের মধ্য়ে বচসা হয়। শুধু তাই নয়, গত কয়েক মাস ধরে আর্থিক সংকটেও ভুগছিল গোটা পরিবার। আর তা থেকেই পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দাম্পত্য কলহের জেরেই স্ত্রীকে খুন করেছে ওই ব্যক্তি। ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং খুনের অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পলাতকের খোঁজে চল্লাশি চলছে।