রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: পুরভোটকে সামনে রেখে অভিনব উদ্যোগ নিল বঙ্গ বিজেপি(BJP)। আসন্ন পুর নির্বাচনে দলের প্রার্থী হতে সাধারণ মানুষকেও সুযোগ দিতে চায় গেরুয়া শিবির। এলাকায় পরিচিতি রয়েছে এরকম সাধারণ মানুষ যিনি ওয়ার্ডের জনপ্রিয় মুখও বটে। সেরকম কেউ যদি বিজেপির হয়ে প্রার্থী হতে আগ্রহী হন তাহলে তিনিও আবেদন করতে পারেন। আবেদনপত্র বিচার করে দেখবে দল। আবেদন জমা দেওয়ার জন্য একটি ড্রপ বক্স রাখা হয়েছে রাজ্য দপ্তরে। আবেদনের সুযোগ থাকছে দলের সাধারণ সমর্থকদের জন্যও।
সামনেই কলকাতা ও হাওড়া-সহ রাজ্যের শতাধিক পুরসভার নির্বাচন। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এই নির্বাচন বঙ্গ বিজেপির কাছে কার্যত সেমিফাইনাল। তাই পুরভোটকে সামনে রেখে আরও মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছে নরেন্দ্র মোদির দল। সাধারণ মানুষকে বিজেপির পতাকাতলে আনার চেষ্টা করছে তারা। জনগণের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে তাই নির্বাচনের আগে নানা কর্মসূচি নিয়েছে রাজ্য বিজেপি।
[আরও পড়ুন: স্কুল শিক্ষক নিয়োগে আর থাকছে না ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া, বিজ্ঞপ্তি জারি রাজ্যের ]
প্রথমত, ‘আর নয় অন্যায়’-এই প্রচার কর্মসূচির সূচনা হচ্ছে। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, রাজ্যের ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা, বেহাল নারী সুরক্ষা ও শিক্ষায় নৈরাজ্য ইত্যাদি বিষয়গুলিকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে। গান ও কবিতার মাধ্যমে ‘আর নয় অন্যায়’ কর্মসূচির প্রচার চলবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের পাঁচ কোটি ভোটারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করবে গেরুয়া শিবির। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে জোরদার করতে একটি ‘ক্ষোভপত্র’ তৈরি করছে রাজ্য বিজেপি। সেখানে স্বাক্ষর করে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা জ্ঞাপন করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।
[আরও পড়ুন: শহিদ মিনারের সভায় কী বলবেন অমিত শাহ, তাকিয়ে গোটা দেশ]
এছাড়াও, হোয়াটসঅ্যাপ, মিসড কল, এসএমএস এবং ওয়েবসাইটে গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। পুরভোট তো বটেই, মূলত ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই ধরনের একাধিক প্রচার কৌশল নিয়েছে গেরুয়া শিবির। গত লোকসভা ভোটে গ্রামগঞ্জে ভাল ফল করেছে বিজেপি। সে তুলনায় কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকাগুলিতে ফল তেমন ভাল নয়। আর পুরভোট মূলত শহর ও আধা শহরগুলিতে। সে কারণে একবারে বামপন্থীদের কায়দায় বিভিন্ন প্রচার কর্মসূচি নিয়ে একেবারে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যেতে চাইছেন দিলীপ ঘোষ ও মুকুল রায়রা।