শুভঙ্কর বসু: পঞ্চায়েত ভোটে সরকারি কর্মীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যের রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান-বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ৷ আগামী ৪ মের মধ্যে পঞ্চায়েত ভোটে নিরাপত্তা সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ সরকারি কর্মী সংগঠনের দায়ের করা মামলার শুনানিতে আজ এই নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ৷
পঞ্চায়েত ভোটে সরকারি কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করে একটি সরকারি কর্মী সংগঠন৷ প্রধান বিচারপতির এজলাসে মামলা দায়ের করে সংগঠনের তরফে বুথ পিছু কমপক্ষে পাঁচ জনের কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানানো হয়৷ কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর দাবি তোলার পাশাপাশি, ভোট কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলে দায়ের হয় মামলা৷ আজ ছিল এই মামলার শুনানি৷
শুক্রবার দুপুরে মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে হাজির ছিলেন রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) অনুজ শর্মা, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সচিব নীলাঞ্জন শান্ডিল্য ও মামলাকারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা৷ এদিন সংগঠনের তরফে আদালতে জানানো হয়, গ্রাম-বাংলায় নির্বাচন করাতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে নিরাপত্তার ঝুঁকি নিতে হয়৷ কখনও বুথে ঢুকে তাণ্ডব, কখনও ব্যালট লুট, মারধর-হুমকির শিকার হতে হয় তাঁদের৷ এই পরিস্থিতি দাঁড়িয়ে পুলিশের সহযোগিতা পাওয়া অনেকাংশে যায় না বলেও আদালতে অভিযোগ তোলা হয়৷
মামলাকারীদের সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দেন এডিজি আইন-শৃঙ্খলা৷ সাফ জানিয়ে দেন, ২ লক্ষ ৯২ হাজার সরকারি কর্মীর নিরাপত্তা ও বুথগুলিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে রাজ্যের৷ প্রয়োজনে ভিন রাজ্য থেকে পুলিশ আনিয়ে ভোটের নিরাপত্তার কাজে ব্যবহার করা হবে৷ পরিসংখ্যান তুলে ধরে আদালতে জানানো হয়, এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে মোট ভোটগ্রহণ কেন্দ্র ৪৩ হাজার ৬৭টি৷ বুথের সংখ্যা ৫৮ হাজার ৪৬৭টি৷ মোট ভোটার ৫ কোটি ৮ লক্ষ ৩৫ হাজার৷ তবে প্রায় ২০ শতাংশ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে না৷ মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য আরও দু’দিন হাতে আছে৷ কাল, শনিবার বেলা তিনটের পরে কত আসনে লড়াই হচ্ছে, সেই চিত্র পরিষ্কার হয়ে যাবে৷ তবে, রাজ্যের হাতে ৪৬ হাজার সশস্ত্র পুলিশ রয়েছে৷ তাছাড়া রয়েছে কলকাতা পুলিশ৷ ফলে, প্রতিটি বুথে পর্যন্ত নিরাপত্তা দেওয়া যাবে বলেও জানান তিনি৷
অনুজ শর্মার সওয়াল শোনার পর হাই কোর্টের আদালতের তরফে পঞ্চায়েত নির্বাচনে কী ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, তা রিপোর্ট আকারে রাজ্যকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ৷ আগামী ৪ মে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ ওই দিনই রয়েছে পরবর্তী শুনানি৷
অন্যদিকে, আজ পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে ফের কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় বিরোধীরা৷ গতকাল একদফায় ভোটের দিন ঘোষণার পর এদিন সিপিএম ও পিডিএসের পক্ষ থেকে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ একদফায় ভোট হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা৷ পিডিএসের তরফে জানানো হয়েছে, হাইকোর্ট মামলা গ্রহণ করেছে৷ আগামী সোমবার শুনানি হবে৷