রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি প্রার্থী নীলাঞ্জন রায়ের গাড়িতে তল্লাশি৷ সেন্ট্রাল এভিনিউয়ে তাঁর গাড়ি আটকে তল্লাশি চালাল পুলিশ৷ ঘটনার প্রতিবাদে কিছুক্ষণের জন্য রাস্তায় অবস্থান বিক্ষোভ করেন বিজেপি প্রার্থী৷ এরপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বউবাজার থানায়৷ ঘটনায় শাসকদলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব৷
[ আরও পড়ুন: রাতের কলকাতায় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীর উপর মদ্যপের হামলা, গ্রেপ্তার ৪ ]
জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভা সংক্রান্ত বৈঠক করতে সোমবার দুপুরে রাজ্য বিজেপির দপ্তরে এসেছিলেন ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি প্রার্থী৷ অভিযোগ, ফেরার সময় প্রথমে সেন্ট্রাল এভিনিউতে তাঁর গাড়ি আটকায় পুলিশ৷ প্রথমে একবার তল্লাশি করা হয়৷ এরপর দ্বিতীয়ধাপে ফের তল্লাশি করা হয়৷ পুলিশের সঙ্গে সামান্য বচসা হয় নীলাঞ্জন রায়ের৷ ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় বসে পড়েন তিনি৷ ফলে কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় সেন্ট্রাল এভিনিউয়ের একটা অংশের গাড়ি চলাচল৷ যানজট তৈরি হয়৷ রাস্তার একটি লেন দিয়ে যান চলাচল করিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ৷ এরপরই ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি প্রার্থীকে নিয়ে যাওয়া হয় বউবাজার থানায়৷ বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের ইন্ধনে সমগ্র রাজ্যে বিজেপি প্রার্থী, নেতা ও সমর্থকদের হেনস্তা করছে পুলিশ ও প্রশাসন৷ শাসকদলের ষড়যন্ত্রের ফলেই প্রশাসন একাজ করছে৷
[ আরও পড়ুন: ভোটের দিন দু’বার গাড়িতে তল্লাশি, হেনস্তার অভিযোগ মুকুলের ]
সোমবারই ক্যানিংয়ের জনসভা থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে আক্রমণ শানিয়েছেন অমিত শাহ৷ ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি৷ আর বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির জনসভার কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিষেকের প্রতিপক্ষ নীলাঞ্জন রায়ের গাড়িতে তল্লাশি চালাল পুলিশ৷ সেই কারণেই এর সঙ্গে রাজনৈতক যোগ রয়েছে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের৷ উল্লেখ্য, রবিবার ষষ্ঠ দফা ভোটের দিনেও বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। কৈখালি ও বিমানবন্দরের কাছে, দু’টি জায়গায় তাঁর গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। ভোটের দিন নিরাপত্তার কারণেই মুকুলের গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে দাবি করে পুলিশ। কিন্তু বিজেপি নেতার অভিযোগ ছিল, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই তাঁর গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এর পিছনে তৃণমূলের উসকানি রয়েছে। যদিও গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেআইনি কিছু উদ্ধার হয়নি৷ তাও এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ বাড়ায়৷