সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কাকভোরে উদাত্ত কণ্ঠে বীরেন্দ্রকৃষ্ণের স্তোত্রপাঠ। আর গঙ্গাঘাটে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। মহালয়ার সকালে চেনা ছবি শহরে। সোমবার সকালে বাবুঘাট, বিজালি ঘাট, জাজেস ঘাটে পিতৃ তর্পন করলেন বহু মানুষ। প্রতিটি ঘাটে চোখে পড়ল কড়া নিরাপত্তা। জলপথে চলল নজরদারি। ঘাট লাগোয়া রাস্তায় নিয়ন্ত্রিত যান চলাচল। দুর্ঘটনা ঘটল হুগলির উত্তরপাড়া ও শেওড়াফুলিতে গঙ্গার ঘাটে। উত্তরপাড়ায় তর্পণ করতে গিয়ে তলিয়ে গেলেন একজন। তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে শেওড়াফুলিতে যিনি তলিয়ে গিয়েছেন, তাঁর এখনও খোঁজ মেলেনি বলে জানা গিয়েছে।
[তর্পণ করতে গিয়ে মৃত ২, গঙ্গায় তলিয়ে গেলেন অধ্যাপক-ব্যবসায়ী]
শাস্ত্রমতে ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন, আর দশমীতে বিসর্জন। কিন্তু, দুর্গাপুজোর আনন্দকে কী আর নিয়মের বেড়াজালে বেঁধে রাখা যায়! দেবীপক্ষ পর্যন্তও আর অপেক্ষা করে না বাঙালি। উৎসব শুরু হয়ে যায় ঢের আগে। ইতিমধ্যেই শহরের বেশ কয়েকটি পুজোর উদ্বোধন হয়ে গিয়েছে। কেউ কেউ ঠাকুর দেখতেও বেরিয়ে পড়েছেন! আর এই উৎসবে মেজাজে যেন বাড়তি মাত্রা যোগ করল মহালয়া। সোমবার কাকভোরে চিরাচরিত রীতি মেনে যেমন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে স্তোত্রপাঠ শুনল বাঙালি, তেমনি শাস্ত্র মতে গঙ্গায় ঘাটে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পনও করল। তিথি মেনে মহালয়ার দিন ভোরেই সাধারণত তর্পণ করতে হয়। কিন্তু, এবার অমাবস্যা দেরিতে ছেড়েছে। পঞ্জিকা মতে তর্পণ করতে হবে বেলায়। শুধু তাই নয়, দুই পঞ্জিকা মতে আবার তপর্ণের সময়ে এক ঘণ্টার তফাৎ! সে যাই হোক, সোমবার বেলা বাড়তেই বাবুঘাট, বিচালি ঘাট-সহ শহরের বিভিন্ন ঘাটে ভিড়ও বেড়ে যায়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি ঘাটে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। জলপথেও নজরদারি চালিয়েছে রিভার পুলিশ। বাবুঘাট-সহ শহরের বিভিন্ন যান চলাচলও নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু, এত নিরাপত্তা সত্ত্বেও অবশ্য দুর্ঘটনা এড়ানো যায়নি।
দুর্ঘটনা ঘটেছে হুগলির উত্তরপাড়া ও শেওড়াফুলিতে। উত্তরপাড়া পুরসভার অন্তর্গত হিন্দমোটরের বটতলা ঘাটে তর্পণ করতে গঙ্গায় ডুবে মারা গিয়েছেন এক ব্যক্তি। ঘণ্টাদুয়েক বাদে উদ্ধার হয় দেহ। শেওড়াফুলিতেও গঙ্গায় তলিয়ে যান এক ব্যক্তি। কিন্তু, এখনও তাঁর খোঁজ মেলেনি বলে জানা গিয়েছে।
ছবি: অরিজিৎ সাহা
[ সরাইঘাট এক্সপ্রেস থেকে উদ্ধার বিরল প্রজাতির বানর]