রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: জ্যোতির্ময়ী শিকদার কি এবার বিজেপির পথে? শনিবার তাঁর সল্টলেকের বাড়িতে বঙ্গ বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের আগমন ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। সল্টলেকে সোনাজয়ী ওই প্রাক্তন আথলিটের বাড়িতে গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। জ্যোতির্ময়ী দিলীপকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন চা খাওয়ার। দিলীপ ঘোষ পদ্মফুল উপহার দেন জ্যোতির্ময়ীকে। বিজেপি সভাপতির সঙ্গে জ্যোতির্ময়ীর এই ছবিটি প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপিতে তাঁর যোগদান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। যদিও এ বিষয়ে জ্যোতির্ময়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালে প্রথমবার লোকসভা নির্বাচনে সিপিএমের টিকিটে দাঁড়িয়ে জিতেছিলেন। কৃষ্ণনগর কেন্দ্রের সাংসদ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরেরবার তৃণমূলের তাপস পালের কাছে হেরে যান তিনি। তারপর থেকে খুব কমই তাঁকে রাজনৈতিক সমাবেশে দেখা যেত। কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনের সময় ট্র্যাক বদলে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দেন জ্যোতির্ময়ী শিকদার। প্রাক্তন সাংসদের দলবদলের সিদ্ধান্ত কিছুটা অবাক হয় তখন সিপিএম রাজ্য নেতৃত্ব। এশিয়ান গেমসে এবং এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি স্বর্ণপদক জিতেছিলেন। পেয়েছেন রাজীব গান্ধী খেলরত্ন পুরস্কারও। ১৯৯৫ সালে অর্জুন পুরস্কার পেয়েছিলেন জ্যোতির্ময়ী। ৫১ বছর বয়সী জ্যোতির্ময়ী নদিয়ার দেবগ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় কৃষ্ণনগরে তাঁর জনপ্রিয়তা ব্যাপক। কিন্তু বহুদিন ধরেই তিনি সল্টলেকের বাসিন্দা।
[আরও পড়ুন: ভোটের মাঝেই ট্র্যাক বদল, সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে জ্যোতির্ময়ী শিকদার]

ইদানীং বহু রাজনীতিকই একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলবদল করছেন। অনেকেই সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। রাজনীতিতে কোনও কিছুই চিরস্থায়ী নয়। তাই দিলীপ ঘোষের হাত ধরে লাল বনিশান ছেড়ে গেরুয়া শিবিরের পতাকা হাতে নেওয়া আশ্চর্যের কিছু নয় বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। চায়ের আমন্ত্রণে দলবদল করার আলোচনা হয়নি তা কে বলতে পারে!