রাহুল চক্রবর্তী: খোলা মঞ্চ থেকে পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলকে সমর্থনের আহ্বান জানালেন সিপিএমের বহিষ্কৃত সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতকে শক্ত করতে হবে। তবে তৃণমূলের মঞ্চে সশরীরে কবে তাঁকে দেখা যাবে, তা খোলসা করতে চাননি তিনি।
[বউবাজারে জালে ২ মহিলা মাদক পাচারকারী, উদ্ধার হেরোইন]
সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর একাধিকবার তৃণমূলের হয়ে মুখ খুলতে দেখা গিয়েছে ঋতব্রতকে। কখনও রাজ্যের উন্নয়নের কর্মসূচির ঢালাও প্রশংসা করেছেন। কখনও আবার সিপিএমের ডাকা বনধের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে সরাসরি তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার আবেদন প্রাক্তন এই বামনেতার। দল তাঁকে বহিষ্কার করলেও খাতায়-কলমে এখন তিনি রাজ্যসভার নির্দল সাংসদ। এই অবস্থায় বুধবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তিনি বলেন, “দেশে এখন বিপজ্জনক পরিস্থিতি। বিজেপির হার জরুরি। বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে সমর্থন করুন। উন্নয়ন ও সম্প্রীতির পাশে দাঁড়ান। পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলকে ভোট দিন।”
[মেট্রোয় শালীনতা থাকা দরকার, যুগলকে মারধরের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিলীপ ঘোষের]
মনোনয়ন জমা দেওয়ায় বিরোধীরা সন্ত্রাসের অভিযোগ আনলেও তা খণ্ডন করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “সন্ত্রাসের অভিযোগ আনার আগে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সব বুথে প্রার্থী ছিল তার তালিকা প্রকাশ করুক বিরোধীরা।” আগামী লোকসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ১:১ ফর্মুলা দিয়েছেন, তাকে সব বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থন করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে সিপিএম বিজেপির সঙ্গে থাকবে না বিরোধিতা করবে, তা বাম নেতৃত্বকে স্পষ্ট ভাষায় জানানোর আবেদন করেছেন। বলেছেন, হায়দরাবাদে সিপিএমের পার্টি লাইন যা গৃহীত হয়েছে তার উল্টোটা দেখা যাচ্ছে। সিপিএমের এমএলএ বিজেপির সঙ্গে হাঁটছেন। এখন সিপিএম নেতারাই জানান, তাঁরা কার সঙ্গে আছেন।
[শেষযাত্রাতেও ব্রাত্য অশোক মিত্র, আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে নিয়ে যাওয়া হল না মরদেহ]
লোকসভা নির্বাচনে সিপিএম রাজ্যে খাতাই খুলতে পারবে না বলে ভবিষ্যদ্বাণী ঋতব্রতর। তাঁর বক্তব্য, “সিপিএম বিনা শর্তে বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। ফলে দলটার আর উন্নতির কোনও সম্ভাবনা নেই। ৬০ হাজার পার্টি কর্মী সদস্যপদ নবীকরণ করেননি। এখন বিজেপিকে ঠেকাতে বিকল্প একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকলের উচিত তাঁকে নিঃশর্ত সমর্থন করা।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে রাজ্যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে তার তথ্য দিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানও দিয়েছেন প্রাক্তন এই সিপিএম নেতা।