গৌতম ব্রহ্ম: ওষুধ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বাজারে। অনেক দোকান থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে জীবনদায়ী ওষুধ। সুগার, প্রেশারের মতো ওষুধের সরবরাহ রাতারাতি কমে গিয়েছে। ফেসবুক থেকে, হোয়াটসঅ্যাপ সর্বত্রই এই নিয়ে আলোচনা চলছে। সঙ্গে কিছুটা গুজব। ফলে, অনেকেই ভয়ে দু’—তিন মাসের ওষুধ কিনে রাখছেন। নেপথ্যে ‘গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স’ বা জিএসটি। প্রস্তুতকারক থেকে ডিস্ট্রিবিউটর, হোলসেলার থেকে রিটেলার-ওষুধ ব্যবসার শিরা—উপশিরা—ধমনী বেয়ে আতঙ্কের চোরাস্রোত বইছে।
[জানেন, কেন অধিকাংশ চালক স্টিয়ারিং হাতেই ঘুমিয়ে পড়েন?]
১ জুলাই থেকে গোটা দেশে লাগু হচ্ছে জিএসটি। ওষুধের বাজারেও করের হার ইতfমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ম্যালেরিয়া, অ্যান্টি—এডস, ডায়াবেটিস, টিবি—সহ কিছু রোগের ওষুধের ক্ষেত্রে করের হার ৫ শতাংশ করা হয়েছে। বাকি ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ। কোথাও আবার ১৮ শতাংশ। কর বাড়লেও স্টকে থাকা ওষুধের এমআরপি বদলাবে না। কর বেশি দিতে হলে ‘প্রাইস টু দ্য রিটেলার’ (পিটিআর), ও ‘প্রাইস টু দ্য স্টকিস্ট’ (পিটিএস) বেড়ে যাবে। অথচ, বেশি দামে রিটেলাররা ক্রেতাদের ওষুধ বেচতে পারবেন না। আবার নতুন নিয়মে রিটেলারদের ন্যূনতম ১৬ শতাংশ মুনাফা দিতেই হবে। সব মিলিয়ে আপাতত এক জটিল আবর্তে বন্দি ওষুধের বাজার। গোদের উপর বিষফোড়ার মতো জুটেছে জিএসটি নম্বর গণ্ডগোল। রবিবার দুপুর দু’টো থেকে হোলসেলার, ডিস্ট্রিবিউটর ও বড় রিটেলাররা জিএসটি পোর্টালে লগ ইন করা শুরু করেছেন। এই পোর্টাল থেকেই দেওয়া হচ্ছে জিএসটি নম্বর। বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিসিডিএ)—এর সভাপতি শঙ্খ রায়চৌধুরি জানিয়েছেন, এক—একটি রেজিস্ট্রেশনের জন্য ৩০—৪৫ মিনিট সময় লাগছে। তার উপর বিকেলে সার্ভার বসে যায়। ফলে, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া থমকে যায়। তার উপর পিটিআর ও পিটিএস নিয়ে এখনও ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি কোনও তালিকা হোলসেলার বা ডিস্ট্রিবিউটরদের সোমবার পর্যন্ত পাঠাতে পারেনি। অথচ, আর মাত্র চারদিন পরেই জিএসটি চালু হবে। শঙ্খবাবুর হিসাব, রাজ্যে প্রায় ১৫ হাজার ওষুধের হোলসেলার রয়েছেন।
[গর্ভবতী মহিলাকে আদরের পরশ খাঁচায় বন্দি বাঘের, ভাইরাল ভিডিও]
এতগুলি রেজিস্ট্রেশন এত কম সময়ে সম্ভব? কাজটা যে কঠিন তা স্বীকার করে নিয়েছেন অর্থনীতিবিদরাও। অধ্যাপক অভিরূপ সরকার জানিয়েছেন, নতুন একটি ব্যবস্থা চালু হলে সমস্যা তো একটু হবেই। করগ্রহীতা ও করদাতা দু’পক্ষেই প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে। জিএসটি নম্বর পেতে গেলে ৩৭ টি ফর্ম ফিলআপ করতে হয় । অনেকেই খেই হারিয়ে ফেলছেন। তাই স্বল্পকালীন মেয়াদে বাজারে একটি সঙ্কট তৈরি হতেই পারে। যদিও বিসিডিএ—র তরফে আশ্বস্ত করার চেষ্টা হয়েছে। শঙ্খবাবু জানিয়েছেন, “ফিকি—র সঙ্গে দু’দিন আগে জিএসটি নিয়ে বৈঠক করেছি আমরা। কিন্তু সরকার বা ওষুধ প্রস্তুতকারকদের প্রস্তুতিপর্বের ঘাটতি আমাদের পক্ষে পূরণ করা মুশকিল। কিছু সমস্যা তো হবেই। অনেক ওষুধ কোম্পানিও দিচ্ছে না।” সমস্যার কথা জানিয়ে আজ, মঙ্গলবার রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের চেয়ারম্যান ডা. চিন্তামণি ঘোষকে চিঠি দিচ্ছেন। চিঠিতে ওষুধের সাময়িক অভাব তৈরি হওয়ার আশঙ্কার কথা থাকছে বলেই জানা গিয়েছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশ অবশ্য কালোবাজারির ভয় পাচ্ছেন। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মৈনাক রায় জানিয়েছেন, নিজেদের মুনাফায় ওষুধ ব্যবসায়ীদের একাংশ কোপ ফেলবেন না বলেই মনে হয়। অতএব, প্রয়োজনীয় ওষুধ বাজার থেকে উধাও করে কৃত্রিম আকাল তৈরির চেষ্টা হতেই পারে। সেক্ষেত্রে এমআরপির থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে হবে ক্রেতাদের। ড্রাগ কন্ট্রোলের এই বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।
সর্বশেষ খবর
-
আপনার এই মাস এপ্রিল ২০২৬, মকর রাশি
-
কোথায় রাখবে এত লজ্জা! টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের কাছে অষ্টমবার হার পাকিস্তানের
-
আইপ্যাক অভিযানে কারা? পরিচয় জানতে ইডিকে চিঠি দিচ্ছে লালবাজার, শুরু CRPF-দের শনাক্তকরণও
-
নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে আচমকা দুঃসংবাদ, অনুশীলনে চোট পেলেন পন্থ
-
বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেশে ভোট পড়েছে ৫৭.৭ শতাংশ, এগিয়ে বাংলা, জানাল কমিশন