সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কথা ছিল ১০ অক্টোবরের মধ্যেই বিদায় নেবে বর্ষা। কিন্তু তার বদলে আরও জাঁকিয়ে বসল শহরজুড়ে। বৃষ্টি আরও বাড়বে রবিবার এমন আশঙ্কাই করেছিল আবহাওয়া দপ্তর। হাওয়া অফিসের অধিকর্তা গণেশকুমার দাস বলেছিলেন, উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে দানা বেঁধেছে ঘূর্ণাবর্ত। অবস্থান পরিবর্তন করে তা ক্রমশ সরে আসছে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের দিকে। আর তাতেই বৃষ্টি হচ্ছে শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায়।” সোমবার সকাল থেকেই অঝোরে বৃষ্টি চলছে কলকাতা ও শহরতলী এলাকায়। সঙ্গে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। বৃষ্টির জন্য একাধিক জায়গায় ট্রেন চলাচল ব্যহত হয়েছে। জেলাগুলিতেও প্রায় একই পরিস্থিতি বলে জানা গিয়েছে। শোনা গিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনও আশা নেই।
[মেঘ মাথায় নিয়েই আজ শহরে ফুটবল পুজো]
বস্তুত, এই বৃষ্টির প্রভাব শনিবার সকাল থেকেই টের পাওয়া গিয়েছে। দফায় দফায় নাগাড়ে বৃষ্টি হয়েছে কলকাতা ও আশপাশে। আকাশে ঘন কালো মেঘ। ক্ষণে ক্ষণে ঝুপঝুপিয়ে বৃষ্টি। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আলিপুরে ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে সোমবার শহরের তাপমাত্রা অনেকটাই কমেছে। এদিন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৫ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ২৩ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইছে বলে জানা গিয়েছে। আবহাওয়ার প্রভাব উপকূলবর্তী এলাকাতেও পড়ছে। ইতিমধ্যেই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
[ভাঙা মন্দির গড়তে এগিয়ে এলেন মুসলিমরা, ভাতারে উজ্জ্বল সম্প্রীতি]
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আগে বর্ষার বেশিটাই হয়ে যেত আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে। ভাদ্রের মাঝামাঝি কাটিয়ে বাংলা থেকে বিদায় নিত। কিন্তু নতুন পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে বর্ষা পিছিয়ে গিয়েছে অনেকটাই। একইসঙ্গে দীর্ঘায়িতও হয়েছে। গত এক দশক ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আবহাওয়াবিদরা দেখেছেন, ১০ অক্টোবর বর্ষা বিদায় তো নিচ্ছেই না, থেকে যাচ্ছে অক্টোবর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত। গোটা দেশেও বর্ষার এই বিলম্বিত লয়। পাশাপাশি অক্টোবর মাস ঘূর্ণিঝড় প্রবণ। এই সময় বঙ্গোপসাগরে ঘন ঘন ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়। তা শক্তি বাড়িয়ে প্রথমে নিম্নচাপ পরে আরও শক্তি নিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। যা পরোক্ষভাবে পুষ্টি জোগায় বর্ষাকে।
[নারদ কাণ্ডে মুকুল রায়কে টাকা নিতে দেখা যায়নি, দিলীপের বক্তব্যে নয়া ইঙ্গিত]