অর্ণব আইচ ও সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়: সল্টলেকের গৃহবধূ অর্চনা পালংদার খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেপ্তার নিউমার্কেটের একটি হোটেলের অস্থায়ী কর্মী। আশিস যাদব নামে ওই ব্যক্তি অর্চনার দেহ লোপাটের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ।
[ কানাডায় চাকরি দেওয়ার নামে ৪০ লক্ষ টাকা প্রতারণা, গ্রেপ্তার ২ মহিলা]
সেপ্টেম্বর মাসে আনন্দপুর পশ্চিম চৌবাগা এলাকার খাল থেকে গৃহবধূ অর্চনা পালংদারের বস্তাবন্দি দেহ মেলে। প্রথমে পরিচয় জানা না গেলেও তদন্তে নেমে মৃতার বাড়ির খোঁজ পায় পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, একদিন আগেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন অর্চনা। আগেও তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, স্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ এফআইআরও করেছিলেন অর্চনা পালংদারের স্বামী। সেই সূত্র ধরেই তদন্তে নামে পুলিশ। মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন সূত্র ঘেঁটে জানা যায়, ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা বলরাম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ছিল অর্চনার। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, বলরামই এই খুনের সঙ্গে যুক্ত। তার সন্ধান করা হচ্ছে। বলরামের সন্ধানে ঝাড়খণ্ডেও গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। এদিকে আবার পড়শি রাজ্যে আশিস যাদব নামে এক ব্যক্তির সন্ধান মেলে। জানা যায় ফুলের ব্যবসা করে আশিস। কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় একটি হোটেলেও অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করে সে। আশিস যাদবের সঙ্গে আবার বলরাম যোগাযোগ রয়েছে। তাকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সে যে হোটেলে কাজ করে, ১৯ সেপ্টেম্বর অর্চনাকে নিয়ে সেই হোটেলেই উঠেছিল বলরাম। হোটেলেই অর্চনাকে খুন করে আত্মঘাতী হয় সে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, পুলিশি ঝামেলা এড়াতে আরও দুই হোটেল কর্মীর সঙ্গে আশিস অর্চনার দেহ বাসন্তী হাইওয়ের পাশে আনন্দপুর চৌবাগা খালে ফেলে আসে। বলরামের দেহ লোপাটের দায়িত্ব ছিল অন্য এক হোটেল কর্মীর। যদিও ঘটনার পর থেকে ওই দুই হোটেল কর্মীরও কোনও সন্ধান নেই। এখন প্রশ্ন, অর্চনাকে খুন করে বলরাম যদি আত্মঘাতী হয়ে থাকে তাহলে পুলিশে খবর না দিয়ে তাঁর দেহ লোপাট করতে গেল হোটেলের কর্মীরা? এখন বলরামের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
[ পুজোর মুখেই নিম্নচাপের খাঁড়া, আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’]