নব্যেন্দু হাজরা: আগামী মাসেই কি বিদায় চারটি বুড়ো রেক? অন্তত তেমনই পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে মেট্রো। কোডাল লাইফ শেষ হওয়া চারটি রেক আগামী মাসেই অবসর নিতে চলেছে। তার বদলে অাগস্টেই ধাপে ধাপে নামতে পারে চার নয়া এসি রেক। একবছর আগে আসা দুটি রেকের ট্রায়াল রান শেষ।
[পরিত্যক্ত কোয়ার্টার থেকে উদ্ধার ১১টি তাজা বোমা, আগরপাড়ায় চাঞ্চল্য]
অধিকাংশ ছাড়পত্রও মিলেছে। বাকি আরও দুই এসি রেক রয়েছে নোয়াপাড়া কারশেডে। তার চলছে ট্রায়াল রান। তাই তেমন কোনও অঘটন না ঘটলে আগামী মাসেই নামতে পারে নয়া এই রেক। যাত্রীরাও চড়তে পারবেন তাতে। আপাতত আরডিএসও (রিসার্চ ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অরগানাইজেশন)-এর ছাড়পত্রের অপেক্ষায় নোয়াপাড়ায় দাঁড়িয়ে চেন্নাই থেকে আসা রেক চারটি। অন্যদিকে এই মাসেই ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর তৃতীয় রেকটি নিয়ে আসা হচ্ছে। আপাতত চলছে প্রথম রেকের ট্রায়াল রান।
বছর পার হতে আর তিন দিন দেরি। কিন্তু এখনও বস্তা দৌড়েই আটকে কলকাতা মেট্রোর জন্য আসা নতুন দুটি এসি রেক। গতবছরের পুজোয় রেকদুটি নামানোর পরিকল্পনা থাকলেও নানা সমস্যায় তা আর হয়নি। এরই মধ্যে আরও দুটি রেক এসে পৌঁছেছে কলকাতায়। রাখা হয়েছে নোয়াপাড়া কারশেডে। চলছে ট্রায়াল রানও। কর্তৃপক্ষের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব চারটি পুরনো রেককে বিদায় দিয়ে এই নয়া চার ট্রেন লাইনে নামানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আগস্টের মধ্যে দুটি রেক তো নামবেই। চেষ্টা হচ্ছে চারটিকেই ধাপে ধাপে নামানোর।
[ফের অফিস টাইমে মেট্রোয় আত্মহত্যার চেষ্টা, বিঘ্নিত পরিষেবা]
গত বছরের ১৫ জুলাই কলকাতার টানেলে ঢুকেছিল চেন্নাইয়ে তৈরি নয়া এসি রেক। প্রথম ধাপে দুটি রেক এলেও এখানকার লাইনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতেই পেরিয়ে গিয়েছে এক বছর। ফলে প্রয়োজন থাকলেও যাত্রীদের জন্য তার দরজা খোলা যায়নি। তবে সমস্যা কেটেছে। প্রথম দুটি রেকের ক্ষেত্রে যা সমস্যা ছিল পরের দুটির ক্ষেত্রে তা নেই বলেই জানাচ্ছেন মেট্রো কর্তারা। নয়া এই রেকে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য অনেক বেশি। মেট্রো সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে যে এসি রেকগুলো চলে, তাতে যাত্রীবহন ক্ষমতা ২৫৬০ জন। কিন্তু নয়া এই রেক ২৭৪০ জন যাত্রী নিয়ে ছুটতে পারবে। চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রেটেড কোচ ফ্যাক্টরিতে এই রেক তৈরি করা হয়েছে। মোট আটটি কোচ দিয়ে একটি রেক। তবে বর্তমানের রেকগুলিতে মাঝেমধ্যে যে এসি থেকে জল পড়ার সমস্যা রয়েছে, এই রেকে তা থাকবে না। রেকের মধ্যে টেকনিক্যাল সমস্যা হলে এখন যেমন চালককে নেমে এসে দেখে মেরামত করার জন্য লোক ডাকতে হয়, এই রেকের ক্ষেত্রে তেমনটা হবে না। চালক নিজের কেবিনে বসেই মনিটরে জানতে পারবেন, রেকের কোথায় কী সমস্যা হয়েছে। রেকে এমন ধরনের স্প্রিং ব্যবহার করা হয়েছে যে, কোনও রকমের ঝাঁকুনি হবে না। রেক সাজানো থাকবে এলইডি দিয়ে৷
মেট্রো সূত্রে খবর, একাধিক ছাড়পত্র ইতিমধ্যেই মিলেছে। শুধু আসা বাকি আরডিএসও-র ছাড়পত্র। তাও পাওয়া যাবে দ্রুত। মেট্রোর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ইন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি যত দ্রুত সম্ভব সবকটি রেককেই লাইনে নামাতে। সবকটি ছাড়পত্র পাওয়া গেলেই যাত্রীদের জন্য নয়া রেকের দরজা খুলে যাবে।” মেট্রোয় বর্তমানে ১৩টি এসি এবং ১৪টি নন এসি রেক চলে। ১৪টি নন-এসির মধ্যে সাতটির খোলনলচে আধুনিক করা হচ্ছে। বাকি সাতটির মধ্যে থেকেই চারটিকে বিদায় জানানো হবে দ্রুত৷