ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: কৃষি বিল (Agriculture Bills) নিয়ে প্রতিবাদের জেরে ডেরেক ও ব্রায়েন-সহ ৮ সাংসদের সাসপেন্ড হওয়া নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। টুইট করে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এ ধরনের সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।
Suspension of the 8 MPs who fought to protect farmers interests is unfortunate & reflective of this autocratic Govt’s mindset that doesn’t respect democratic norms & principles. We won’t bow down & we’ll fight this fascist Govt in Parliament & on the streets.#BJPKilledDemocracy
Advertisement— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) September 21, 2020
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার সংসদের উচ্চকক্ষে নয়া কৃষি বিল পেশের সময়। এ নিয়ে বিতর্কের জেরে কংগ্রেস সাংসদ রিপুন বোরা, তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং ও ডিএমকে সাংসদ ত্রিরুচি শিবা হরিবংশের পোডিয়ামের মাইক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। এমনকী, তাঁরা রুলবুক, কাগজপত্রও ছিঁড়ে দেন বলে অভিযোগ। যদিও বিরোধীদের দাবি, রাজ্যসভার (Rajya Sabha) ডেপুটি চেয়ারম্যানকে রুল বুক দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন ডেরেক। তাঁকে সরিয়ে দেন রাজ্যসভার মার্শাল। সেসময় ১০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয়। পরে অধিবেশন শুরু হলে ধ্বনি ভোটে বিল পাশ হয়ে যায়। এরপর কংগ্রেস, তৃণমূল, বাম ও ডিএমকে সাংসদরা রাজ্যসভার কক্ষে ধরনায় বসেন। ডেপুটি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব (No Confidence Motion) আনেন সাংসদরা। তৃণমূল সাংস ডেরেক ও’ ব্রায়েনের যদিও দাবি, তিনি রুল বুক ছেঁড়ার মতো কাজ করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
[আরও পড়ুন: ভিড় সামলাতে কমানো হতে পারে দুই মেট্রোর মাঝে সময়ের ব্যবধান, বৈঠকে বসছে কর্তৃপক্ষ]
এর পরিপ্রক্ষিতে আজ দিনের শুরুতেই ডেরেক, রিপুন বোরা-সহ রাজ্যসভার ৮ সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়। অধিবেশনের শুরুতেই ডেপুটি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাংসদদের ‘অভব্যতা’র বিষয়টি তুলে চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নায়ডু সাফ জানান, সাংসদের এমন ব্যবহার মেনে নেওয়া যায় না। তাঁদের আত্মসমীক্ষা করা উচিত। এক সপ্তাহের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে ওই ৮ সাংসদকে। এরপরই এ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ”এই ঘটনা খুবই অনভিপ্রেত। তবে আমরা মাথা নত করব না। কেন্দ্রের স্বৈরাচারিতার বিরুদ্ধে সংসদে এবং প্রয়োজনে পথে নেমে লড়ব।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টুইটের পর রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, নতুন কৃষি বিলকে সামনে রেখে ফের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নতুন করে অস্ত্রে শান দেবে তৃণমূল। এই ইস্যুতে বিরোধীদের একজোট করে ফের বড়সড় আন্দোলনের পরিকল্পনাও তৈরি হতে পারে।