সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বহু প্রত্যাশিত ব্রিগেড সমাবেশ থেকে নিজের পুরনো অস্ত্রেই শান দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেনার সাফল্য, জাতীয়তাবাদ এবং কংগ্রেসের পরিবারতন্ত্র, এই ছিল প্রধানমন্ত্রীর অনতিদীর্ঘ বক্তব্যের সারাংশ। মুখে বললেন, রিপোর্ট কার্ড দিতে এসেছি, কিন্তু তাঁর বক্তব্যের মধ্যে শোনা গেল সেই পুরনো গান্ধী পরিবারের বিরোধিতা আর দেশাত্ববোধের কথা। ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন, জাতীয়তাবাদই এবারের লোকসভায় বিজেপির মূল এজেন্ডা।
[আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী ‘জঙ্গি’, গোধরায় মুসলিম হত্যা প্রসঙ্গ তুলে মোদিকে কটাক্ষ নায়ডুর]
ব্রিগেডের জনসমাগমের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বললেন, “গোটা ভারতের জয়জয়কার হচ্ছে। আপনাদের সহযোগিতায় ভারত সেই কাজগুলি করছে, আমরা যার স্বপ্ন দেখতাম। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হোক, এয়ারস্ট্রাইক হোক কিংবা মহাকাশে স্ট্রাইক। ভারত মহাশক্তির দিকে এগোচ্ছে আর গোটা বিশ্ব তা মেনে নিয়েছে। সব দিকেই নতুন ভারতের ভিত তৈরি হচ্ছে।” এরপরই চেনা ভঙ্গিমায় সমবেত জনতাকে উৎসাহিত করতে তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়লেন প্রধানমন্ত্রী। মোদির প্রশ্ন, “মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, এয়ারস্ট্রাইক, মহাকাশে স্ট্রাইকের মতো কাজ কে করেছে? প্রত্যাশিতভাবেই জনতার উত্তর, “মোদি, মোদি মোদি।” কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাদের শুধরে দিলেন, বললেন, “আমি করিনি, করেছে আপনাদের ভালবাসা আর সহযোগিতা।”
[আরও পড়ুন: ‘চৌকিদার পিওর হ্যায়’, মোদিকে সার্টিফিকেট যোগগুরু রামদেবের]
সমবেত জনতার হাততালির মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নাম না করে মমতাকে ঠুকলেন। এবার তাঁর প্রশ্ন, “বলুন, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের প্রমাণ কারা চেয়েছিল, বীরদের কাছে জঙ্গিদের লাশ কে দেখতে চেয়েছিল? মোদির অভিযোগ, দেশের আগে ব্যক্তিগত স্বার্থ বজায় রাখতে গিয়ে দেশের নিন্দা করছে বিরোধীরা। দিদি আর তাঁর সহযোগীরা দেশবিরোধী কথা বলছে, কারণ ওদের মাটির তলার জমি সরে গিয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে মমতার গড়ে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের তুলনায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধেই যেন বেশি সুর চড়ান মোদি। কংগ্রেসের ইস্তাহার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি সেনা জওয়ানদের চৌকিদার বলেছিলাম, ওদের সহ্য হল না। তাই সেনার রক্ষাকবচ এই (আফস্পা) আইন প্রত্যাহার করেছে। কংগ্রেস সেনার মনোবল কমিয়ে দিতে চাইছে। আমি তা হতে দেব না।”
[আরও পড়ুন: ‘কংগ্রেসের ইস্তাহারের প্রতিশ্রুতি দেশকে টুকরো টুকরো করে দিতে পারে’, দাবি জেটলির]
প্রধানমন্ত্রীর সভার মাস দুই আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে ইউনাইটেড ইন্ডিয়ার ব়্যালি হয়ে গিয়েছে ব্রিগেডে। পূর্ববর্তী ব্রিগেডকে কটাক্ষ করে বললেন, “কিছুদিন আগে এখানে মেলা বসেছিল। অন্য রাজ্য থেকে নেতা বাংলায় এসেছিল, শুধু ‘মোদি হটাও’ বলার জন্য। আরে ভাই কেন হঠাতে চান? মোদি কি এমন অন্যায় করেছে? গরিবদের বাড়ি, শৌচাগার, রান্নার গ্যাস, বিদ্যুৎ, বিনামূল্য চিকিৎসা, এসব দেওয়া যদি অন্যায় হয়, তাহলে আমি সেই অন্যায় করেছি। এর আগে কেউ ভেবেছিল উচ্চবর্গের মানুষের জন্য সংরক্ষণ হবে, কেউ ভেবেছিল পাঁচ লাখ টাকা রোজগার করলেও কর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এরপর বাংলায় আর তোলাবাজিও চলবে না সিন্ডিকেটও চলবে না। ২০১৪ তে এতদিনের গর্ত পূরণ করলাম। ২০১৯-এ উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যাব।”
ব্রিগেডের জনসভা থেকে পরিবারতন্ত্রকেও হাতিয়ার করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বললেন, “যদি ভারত স্বামী বিবেকানন্দের মন্ত্রে চলত, তাহলে গোটা বিশ্বে ভারত সবার থেকে এগিয়ে থাকত। ভারত স্বাধীনতা পেয়েছে, কিন্তু মানুষ স্বাধীনতা পায়নি। গণতন্ত্রের নামে পরিবারতন্ত্র ৫৫ বছর দেশকে শাসন করেছে। আমাদের কাছে প্রতিভার অভাব ছিল না। কিন্তু ৫৫ বছরের পরিবারতন্ত্র গরিবের স্বপ্নকে ভুলুণ্ঠিত করে দিয়েছে। বাংলাও আজ পরিবারতন্ত্রের অন্ধকারে ডুবছে। পিসি-ভাইপো মিলে বাংলাকে লুট করছে। এদের থেকে মুক্তি পেতে ভোট দিন। পরিবারতন্ত্রকে দেশ থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে ভোট দিন।”