গৌতম ব্রহ্ম: একের পর এক স্বাস্থ্যকর্মী বিশেষত নার্সরা রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ইস্তফা দিয়ে চলে যাচ্ছেন অন্যত্র। যার জেরে বাংলায় নতুন করে সংকটে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো। কলকাতা শহরের ক্ষেত্রে সেই সমস্যা যেন আরও বেশি। বাংলায় থাকা ১৮৫ নার্স মণিপুরে ফিরে যাচ্ছে। আমরি, পিয়ারলেস-সহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি হাসপাতাল সংকটে পড়েছে। নিজের রাজ্যে ফিরতে মরিয়া ওড়িশা ও ত্রিপুরার নার্সরাও। আসলে, করোনা সংক্রমণের আতঙ্কই তাঁদের এই পথে চালিত করছে বলে অন্দরের খবর।
সূত্রের খবর, অনেকেই একথা প্রকাশ করেছেন যে সংক্রমণের আতঙ্ক কাটলে তবেই তাঁরা ফিরতে রাজি। আবার তার মধ্যে যদি কর্মস্থল থেকে চাকরি চলেও যায়, তাতেও বিশেষ অসুবিধা নেই। কার্যত গণইস্তফা দিয়েই নিজেদের রাজ্যে ফিরতে মরিয়া তাঁরা। কলকাতার হাসপাতালগুলিতে মণিপুরের প্রায় ২০০ নার্স কর্মরত। সরকার তাঁদের ফেরাতে বাসের ব্যবস্থা করেছে। সেই বাস শহরে এসে পৌঁছেও গিয়েছে। তাতেই নিজেদের বাডি ফিরছেন সেবিকারা।
[আরও পডুন: কমল সংক্রমণের হার, একদিনে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি টেস্ট করে নজির পশ্চিমবঙ্গের]
মণিপুরের পথেই হাঁটছে ওড়িশা ও ত্রিপুরা। এই দুই রাজ্য থেকেও কয়েকদিনের মধ্যেই বাস চলে আসবে বলে জানা গিয়েছে। আমরি গ্রুপ সিইও রূপক বড়ুয়া বলেছেন, ”আমরা নার্সিং পরিষেবার ব্যাপারে এই তিনটে রাজ্যের উপর নির্ভরশীল। তাই সংকটে পড়ব।” পিয়ারলেসের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ডাঃ সুদীপ্ত মিত্রের কথায়, ”এখানে মণিপুরের ৩০ জন নার্স রয়েছেন। ৭-৮ জন ওড়িশার। তাঁদের অনেকেই চলে গিয়েছেন। মণিপুরের মেয়েরাও বাস এলেই উঠে পড়বেন। আমাদের আর আটকে রাখার উপায় নেই। হতে পারে তাঁরা পরিযায়ী নার্স না হয়ে নিজের রাজ্যেই এরপর কাজ করবেন।”
[আরও পডুন: করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডাহা ফেল, রাজ্য সরকারকে ফের টুইটারে আক্রমণ বিজেপি নেতাদের]
আমরি এবং পিয়ারলেস – দুই হাসপাতালেই COVID ওয়ার্ড রয়েছে। সেই ওয়ার্ডে চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নার্সরা। তাঁরা চলে যাওয়ায় প্রবল সংকট তৈরি হবে – আশঙ্কা চিকিৎসক থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সকলের। তবে এই পরিস্থিতিতে তাঁদের কাজে আটকে রাখাও কার্যত অসম্ভব। ফলে সংকটের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিতেই হচ্ছে হাসপাতালগুলিকে।