Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
দেউচা-পাঁচামি কয়লাখনি

প্রধানমন্ত্রীকে দেউচা-পাঁচামি কয়লাখনি উদ্বোধনে না আসার আবেদন, চিঠি বিজেপি সাংসদের

নরেন্দ্র মোদিকে দিয়ে উদ্বোধন করিয়ে সমস্যা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯, ১৯:০২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯, ১৯:০২

options
link
প্রধানমন্ত্রীকে দেউচা-পাঁচামি কয়লাখনি উদ্বোধনে না আসার আবেদন, চিঠি বিজেপি সাংসদের zoom
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাজ্যসভা সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত।

রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: আড়াই বছর পর কেটে ছিল জট। কলকাতা থেকে দিল্লি গিয়ে বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি দুর্গাপুজোর পর প্রধানমন্ত্রীকে দেউচা-পাঁচমি কয়লাখনি উদ্বোধনের জন্য আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন। আর তারপরই বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে নরেন্দ্র মোদিকে দু’পাতার চিঠি পাঠালেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত।

[আরও পড়ুন: বাবুল সুপ্রিয়কে ঘিরে যাদবপুরে ধুন্ধুমার, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে নিগ্রহ বামপন্থী পড়ুয়াদের]

তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে দেউচা-পাঁচমির কয়লাখনির উদ্বোধন করিয়ে গুরুতর কিছু সমস্যাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে রাজ্য প্রশাসন। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনে সাড়া দিয়ে কয়লাখনি উদ্বোধনে আসার আগে সবকিছু খতিয়ে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন তিনি।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ওই চিঠিতে বীরভূমের দেউচা-পাঁচমি কয়লাখনি সংক্রান্ত গুরুতর কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন স্বপনবাবু। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি লিখেছেন, দুর্গাপুজোর পর আপনি যদি ওই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তাহলে সবার কাছে ভুল বার্তা পৌঁছবে। কারণ, এই প্রকল্পের পরিকল্পনা একদম প্রাথমিকস্তরে রয়েছে। ওই এলাকা থেকে কয়লা উত্তোলন হলে পরিবেশের কতটা ক্ষতি হবে তা এখনও খতিয়ে দেখা হয়নি। সামাজিক পরিস্থিতির উপর কতটা প্রভাব পড়বে তারও সমীক্ষা হয়নি। এমনকী এখনও পর্যন্ত পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্রও নেওয়া হয়নি। এছাড়া যে জায়গাটিকে কয়লাখনির জন্য বেছে নেওয়া সেটি আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা। প্রকল্পের কথা শুরু হতেই ওখানকার বাসিন্দারা বারবার আপত্তি জানিয়েছেন। এর জন্য তাঁদের কী কী অসুবিধা হবে সেকথাও উল্লেখ করেছেন। এর প্রেক্ষিতে তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করারও প্রতিশ্রুতি দেয় রাজ্য সরকার। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে না নেওয়া হয়েছে কোনও পরিকল্পনা না তৈরি হয়েছে কোনও নীতি। আর এই বিষয়টি রাজ্য সরকার স্বীকারও করে নিয়েছে। বীরভূম জেলায় সম্প্রতি রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা আগের থেকে অনেক বেড়ে গিয়েছে। এই সংক্রান্ত ঘটনার পিছনে জমি মাফিয়ারা রয়েছে বলেই সন্দেহ করা হচ্ছে। ওই মাফিয়াদের নজর রয়েছে আদিবাসীদের জমির উপরও। তাই এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী যদি বীরভূমে আসেন তাহলে মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছবে। সবাই মনে করবে, সব প্রক্রিয়া মেনে প্রকল্প তৈরি হচ্ছে বলেই প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনে আসছেন। আর এই সুযোগে পরিবেশ ও অন্য ছাড়পত্র না পাওয়ার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করবে রাজ্য প্রশাসন। ওই এলাকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টিও সাইডলাইনে চলে যাবে।

[আরও পড়ুন: এনআরসি আতঙ্ক কাটাতে আইনি সহায়তা কেন্দ্র খোলার উদ্যোগ তৃণমূলের, জানালেন সিদ্দিকুল্লা]

বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে সংবাদ প্রতিদিনকে স্বপনবাবু বলেন, ‘প্রতিদিনই প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনেক আমন্ত্রণের চিঠি পৌঁছায়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আর আমিও এই প্রকল্পের উদ্বোধনে আসার আগে তাঁকে সবদিক খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করেছি। কারণ, প্রধানমন্ত্রী চান সবদিক থেকে রাজ্যের উন্নতি হোক। তাই রাজ্যে কোনও ভাল কাজ হলে তিনি সবসময় সাহায্য করতে রাজি। কিন্তু, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাঁকে বোকা বানানোর চেষ্টা চলছে। যে প্রকল্পের অধিকাংশ ছাড়পত্র জোগাড় হয়নি, তা উদ্বোধনের জন্য এত তাড়াহুড়ো কেন?’

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.