পুজো প্রায় এসেই গেল৷ পাড়ায় পাড়ায় পুজোর বাদ্যি বেজে গিয়েছে৷ সেরা পুজোর লড়াইয়ে এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায়৷ এমনই কিছু বাছাই করা সেরা পুজোর প্রস্তুতির সুলুকসন্ধান নিয়ে হাজির Sangbadpratidin.in৷ আজ পড়ুন নলিন সরকার স্ট্রিট সার্বজনীনের পুজো প্রস্তুতি৷
শুভময় মণ্ডল: পুজো মানেই দেদার হুল্লোড়। প্রচুর মজা, অঢেল খানাপিনা, ঠাকুর দেখা। আট থেকে আশির আনন্দোৎসবে শামিল হওয়া। উৎসব তো তার নিজের রং আর ঢঙে চলতে থাকে। মণ্ডপে মণ্ডপে আলোর রোশনাই, প্রতিমার জাঁকজমক, শব্দের তাণ্ডব। কিন্তু এমন উৎসবেও ব্রাত্য থাকে বিশেষ কিছু মানুষ। বিশেষ, কারণ তারা আর পাঁচজনের মতো নয়। তারা প্রতিবন্ধী, অসহায়। তাদের পুজোর কটাদিন কাটে চার দেওয়ালের মধ্যেই। আমরা যারা আশ্বিনের শারদ প্রাতে মায়ের আরাধনায় ব্রতী হই, ভাবি হয়তো মা আমাদের সঙ্গেই রয়েছে। কিন্তু মা আসলে কোথায়? মায়ের মনকে কতটা জানতে পেরেছি আমরা? সমস্ত জাঁকজমক আর হুল্লোড়ে চাপা পড়ে গিয়েছে যাদের কান্না, মায়ের মন পড়ে আছে তাদের কাছেই। এবার সেই বিশেষ মানুষের কাছেই পুজোয় আসবেন দেবী। কারণ, মাকে যে চিঠি লিখেছে ওরা। এবার যেন পুজোর চারদিন তাদের হোমেই আসেন দেবী। অপটু হাতে কৈলাসের ঠিকানায় সেই চিঠি লিখে পোস্টবাক্সে ফেলেছে তারা। শুরু হয় স্বপ্ন দেখা। হুইলচেয়ারে লাগে টান। চাকা গড়িয়ে আসে জানলার কাছে। শান্তির রং চোখে পড়ে। আনন্দ অনুভূত হয় হৃদয়ের প্রতিটি কণায়। হয়তো হয়েছে একটা মাত্র নতুন জামা, তাতে কী! অপেক্ষা তো এবার মায়ের ঘরে আসার। হোমের চার দেওয়ালে হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলোর ফের রঙিন ডানা মেলে ওড়ার। এবার পুজোয় সেই বিশেষ মানুষগুলোর কথা ভেবেই থিম করেছে উত্তরের জনপ্রিয় পুজো নলিন সরকার স্ট্রিট সার্বজনীন। থিমমেকার রিন্টু দাসের ভাবনায় ৮৫তম বর্ষে তাদের নিবেদন- ‘মা তুমি কার!’

স্বপ্নের আকাশে ডানা মেলে উড়ে চলে হুইল চেয়ার। উৎসবে মাতোয়ারা মন আর মানতে চায় না। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। দৃষ্টিহীন, শ্রবণশক্তিহীনতা, চলনশক্তিহীন। তবুও মনের জোর রয়েছে। আর সবার মতো সমান অধিকারে বাঁচার অঙ্গীকার রয়েছে। তারাও দুর্গা মায়ের সন্তান। তাই তাদের পুজোর আনন্দ গোটা মণ্ডপসজ্জায় ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী রিন্টু দাস। স্যাঁতসেতে কাঠের দরজা, তাতে নানান আঁকিবুকি। সেই দরজা ঠেলে হোমে প্রবেশ। সেখানেই দেওয়াল জুড়ে অজস্র চিঠি। তাতে সেই বিশেষ শিশু-কিশোররা নিজের মতো করে মাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। অপটু হাতে লেখা সেই চিঠি কৈলাসের ঠিকানায় পাঠাচ্ছে ওরা। মণ্ডপে থাকছে প্রচুর পোস্টবাক্স। ওদের বিশ্বাস ডাকহরকরা সেই চিঠি ঠিক পৌঁছে দেবে মায়ের কাছে। সেই বিশ্বাস থেকেই তাদের ঘরে আসবেন দেবী। মায়ের স্নেহের পরশ দিয়ে নতুনভাবে বাঁচার ইচ্ছাশক্তি জোগাবেন তিনি। গোটা মণ্ডপেই হুইল চেয়ার, ক্র্যাচ থাকছে। এছাড়াও রঙিন লেটারবক্স, পোস্টবক্স তো থাকছেই। আরও একটি বিশেষ আকর্ষণ থাকছে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য। তাদের সুবিধার জন্য মণ্ডপের প্রবেশদ্বারে ব়্যাম্পের ব্যবস্থা থাকছে।

থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমা গড়ছেন শিল্পী পরিমল পাল। এবার প্রতিমার বিশেষত্ব হল, লক্ষ্মী, গণেশ তো থাকছেই। তবে মায়ের কোলে এক প্রতিবন্ধী শিশুর মূর্তিকে রাখা হচ্ছে। থিমের কথা ভেবেই এমন ভাবনা। আবহ সংগীতের দায়িত্বে রয়েছেন শিল্পী দেবজিৎ গাইন। গতবছর থিমশিল্পী রূপক বসুর সৃজনে পুতুল ও প্রতিমায় সেজে উঠেছিল নলিন সরকার স্ট্রিট সার্বজনীনের পুজোমণ্ডপ। এ বছর sangbadpratidin.in -এ অরবিন্দ সরণির এই পুজোর যাবতীয় হালহকিকত জানতে পারবেন। ছবি, ভিডিওর জন্য চোখ রাখতেই হবে এখানে।



কেমন চলছে পুজোর প্রস্তুতি, দেখুন ভিডিওয়-
সর্বশেষ খবর
-
আপনার এই মাস এপ্রিল ২০২৬, মকর রাশি
-
কোথায় রাখবে এত লজ্জা! টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের কাছে অষ্টমবার হার পাকিস্তানের
-
আইপ্যাক অভিযানে কারা? পরিচয় জানতে ইডিকে চিঠি দিচ্ছে লালবাজার, শুরু CRPF-দের শনাক্তকরণও
-
নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে আচমকা দুঃসংবাদ, অনুশীলনে চোট পেলেন পন্থ
-
বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেশে ভোট পড়েছে ৫৭.৭ শতাংশ, এগিয়ে বাংলা, জানাল কমিশন