সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রায় দেড় মাসের মাথায় এনআরএস হাসপাতালে জুনিয়র ডাক্তার নিগ্রহকাণ্ডে আরও ২ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম তাবের ও নিজামউদ্দিন। ঘটনা পর পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হলেও দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের চোখে এড়িয়েছিল এই দু’জন। অবশেষে এন্টালি থানার পুলিশের হাতে ধরা পড়ল তারা।
[আরও পড়ুন: পুজোয় যাত্রী চাপ সামলাতে কি ফের পাতালে নামবে আরও দুই ‘বিতর্কিত’ মেধা?]
গত ১০ জুন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল এনআরএস হাসপাতাল। আক্রান্ত হন পরিবহ-সহ একাধিক জুনিয়র ডাক্তার। তারই জেরে শুরু হয় কর্মবিরতি। রাজ্যজুড়ে ডাক্তাররা কাজ বন্ধ করে দেওয়ার জেরে একেবারে থমকে গিয়েছিল স্বাস্থ্য পরিষেবা৷ দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বেরিয়ে এসেছিল সমাধানসূত্র৷ চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত সমস্যার কথা মেনে দ্রুত তা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন মমতা৷ জুনিয়র ডাক্তারদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির আশ্বাসই সার৷ বাস্তবে তেমন কিছুই হয়নি৷ ঘটনার পর ৫ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হলেও অচিরেই জামিনও পেয়ে যায় তারা। ঘটনার পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলও অধরা ছিল ২ অভিযুক্ত।
এর প্রতিবাদে ফের সরব হন জুনিয়র ডাক্তাররা। প্রশ্ন তোলেন, গত ১০ জুন রাতে এনআরএস হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিবহ মুখোপাধ্যায়কে মারধরের ঘটনায় যারা অভিযুক্ত, তারা কেন এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে? গ্রেপ্তার করা হয়েছিল যাদের, কেনই বা জামিনে মুক্ত করা হল তাদের?
এসব প্রশ্ন তুলে এবং দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আগামী মঙ্গলবার ফের লালবাজার অভিযান করার কথা ছিল রাজ্যের সমস্ত চিকিৎসকদের। তাঁর আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়ল দুই অভিযুক্ত। পুলিশের এই ভূমিকার পর জুনিয়র চিকিৎসকদের লালবাজার অভিযানের পরিকল্পনা কি জারি থাকবে? নাকি সিদ্ধান্ত বদল করবেন চিকিৎসকরা? তা নিয়েই জল্পনা শুরু হয়েছে সব মহলে।