সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়াবেন না, বাদুড়িয়ার পরিস্থিতির মোকাবিলায় এমনই আবেদন জানাল কলকাতা পুলিশ। কলকাতা পুলিশের ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু গুজব ছড়ানো হচ্ছে। যার ফলে রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে। গুজবে কান দেবেন না। সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক পোস্টের দ্বারা চালিত হবেন না।” রাজ্যের কোথাও কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে ১০০ ডায়াল করে পুলিশকে জানানোর আবেদনও করা হয়েছে ওই পোস্টে। এক নয়, একাধিক পোস্ট করে রাজ্যবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে পুলিশের তরফে। জানানো হয়েছে, হিংসা ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর পুলিশের কড়া নজর রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
[রাজ্যপাল ক্যাডারসুলভ আচরণ করছেন, অভিযোগ পার্থর]
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার রাতে, উত্তর চব্বিশ পরগনার বাদুড়িয়ার রুদ্রপুরে। সৌভিক সরকার নামে এক যুবকের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গন্ডগোল বাধে। শুরু হয় হামলা, ভাঙচুর। রাতভর বিক্ষোভ চলে। সোমবার সকাল থেকে অবস্থা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। বাদুড়িয়ার একাধিক জায়গায় দুই গোষ্ঠীর ঝামেলা বাধে। এলাকাজুড়ে দাপিয়ে বেড়ায় সশস্ত্র দুষ্কৃতীর দল। ওই যুবক ও তার আত্মীয়ের বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এবং বেলা বাড়তে অশান্তির আঁচ ছড়িয়ে পড়ে। দেগঙ্গা, স্বরূপনগর, মিনাঁখার বিস্তীর্ণ অঞ্চল রীতিমতো ফুটতে থাকে। বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর চলে, সঙ্গে অবাধ লুঠপাট। উত্তর ২৪ পরগনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) আনন্দ রায়ের উপর হামলা হয়। পরে বিশাল পুলিশবাহিনী যায়। নামানো হয় কমব্যাট ফোর্স, র্যাফ। অভিযুক্ত ছাত্রকে পুলিশ গ্রেফতার করে সোমবার সকালে।

কিন্তু তাতেও সুরাহা হয়নি। সোমবার শিয়ালদহ-হাসনাবাদ শাখায় বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল। ঘটনার জের টেনে মঙ্গলবার সকাল থেকে দফায় দফায় গন্ডগোল বাধে বসিরহাট, বারাসত মহকুমার বিভিন্ন জায়গায়। শিয়ালদহ-হাসনাবাদ শাখার একাধিক স্টেশনে অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। বনগাঁ শাখাতেও তার প্রভাব পড়ে। কদম্বগাছি, গোলাবাড়ি, আমডাঙা, বামনগাছিতে তীব্র গন্ডগোল বাধে। শায়েস্তানগরে দিনভর চলে ভাঙচুর, লুঠপাট। কয়েকশো দুষ্কৃতী বাদুড়িয়ায় শায়েস্তানগর, রুদ্রপুর, মলয়াপুরে দখল নিয়ে তাণ্ডাব চালাতে থাকে। বাড়ি বাড়ি ভাঙচুর করে। বাদুড়িয়া, দেগঙ্গা, বিড়া, গুমা, অশোকনগর জুড়ে গন্ডগোল ছড়িয়ে পড়ে। বাদুড়িয়ার মলয়াপুরে জেলার পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় মারমুখী জনতার হাতে আক্রান্ত হন। পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগানো হয়। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। বসিরহাটে একটি শপিং মল ও একটি গাড়ির শোরুম জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ মিলেছে। বেড়াচাঁপাতেও সশস্ত্র বাহিনী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ওই অঞ্চলে পুলিশকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। একাধিক জায়গায় বিস্তর বোমাবাজিও হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাপ্রবাহে লেগে গিয়েছে রাজনীতির রং।
[আরএসএসের শাখা হয়ে উঠেছে রাজভবন, বিস্ফোরক অভিযোগ ডেরেকের]

বিজেপি পথ অবরোধ করে। অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের হাতাহাতি বেধে যায়। আবার বাদুড়িয়ায় যাওয়ার সময় বিজেপির প্রতিনিধিদলকে বাধা দেন বিক্ষোভকারীরা। পাল্টা ৩৪ ও ৩৫ নম্বর জাতীয় সড়ক, টাকি রোডের একাধিক স্থানে অবরোধ করে। বারাসত ও বসিরহাট মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ করা হয়। অশোকনগরের ঈশ্বরীগাছা মোড়ে অবরোধ চলে এবং একটি বাসে আগুল লাগানোর চেষ্টা হয়। এদিন সন্ধ্যার পর থেকে বাদুড়িয়া—সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বন্ধ করে দেওয়া হয় মোবাইল পরিষেবা। গোটা জেলায় বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবাও। রাতের দিকেও বিভিন্ন জায়গায় ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বসিরহাট মহকুমার নানা অঞ্চলে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, সাধারণ মানুষ ভীত—সন্ত্রস্ত হয়ে আছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতেই ৪ কোম্পানি বিএসএফ বাদুড়িয়ায় যায়। স্বরূপনগর, দেগঙ্গা, বাদুড়িয়া থানা এলাকার আনাচে কানাচে রাত থেকে আধা ফৌজ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলার এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্টে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। বাইরে থেকে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।