শুভঙ্কর বসু: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (CAA) প্রতিবাদে এ রাজ্যে রেলের প্রভূত ক্ষতি হয়েছে। হিসেব বলছে, প্রায় ১০০ কোটি টাকা। আগেই এই ক্ষয়ক্ষতির জন্য রাজ্যকে দায়ী করেছিল রেল। এবার এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়ের করার কথা ভাবছে রেল কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর এমনটাই।
অন্যদিকে, CAA’র বিরোধী আন্দোলনে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যে তাণ্ডব হয়েছে, তা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিল রাজ্য সরকার। রিপোর্টে রাজ্য জানিয়েছে, বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ন্ত্রণে যথাসম্ভব ব্যবস্থা নিয়েছে নেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টি বি রাধাকৃষ্ণনের ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্যের অডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত জানিয়েছেন, বিক্ষোভের জেরে মোট ৬৪টি এফআইআর করা হয়েছে। অশান্তি পাকানোর অভিযোগে সব মিলিয়ে মোট ৯৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
[আরও পড়ুন: নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় সুর চড়িয়ে দেশে গণভোটের ডাক দিলেন মমতা]
এছাড়াও রাজ্যের একাধিক রেল স্টেশনে ভাঙচুর প্রসঙ্গে এজি জানিয়েছেন, গোটা রাজ্যের মোট ৭১৫টি রেল স্টেশন রয়েছে। যার মধ্যে মাত্র ৬ থেকে ৭টি রেল স্টেশনে পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যায়। পরিষেবা পুরোপুরি ব্যাহত হয়। এজি’র যুক্তি, রেল ও রেল স্টেশনগুলির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে রেল সুরক্ষা বাহিনী। ভাঙচুর ও বিক্ষোভের সময় রেলের তরফে রাজ্যের কাছে যে সংখ্যক বাহিনী চাওয়া হয়েছিল, রাজ্য তাদেরকে সেই সংখ্যক বাহিনী দিয়ে সাহায্য করেছে। এছাড়াও রাজ্যের তরফে সমস্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অ্যাডভোকেট জেনারেল আরও জানিয়েছেন, ছয় জেলার উত্তেজনাপ্রবণ এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। এছাড়াও এজি জানিয়েছেন, বিক্ষোভ প্রশমনে রাজ্যে যে ব্যবস্থা নিয়েছে তা নিয়ে আদালতে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে চায় রাজ্য সরকার। মামলার পরবর্তী শুনানি শুক্রবার দুপুর দু’টোয়।