অভিরূপ দাস: শিশুমন নরম মাটির মতো। সহজেই তাকে গঠনমূলক আকার দেওয়া যায়। স্কুলে স্কুলে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার পাঠ দেবে কলকাতা পুরসভা (KMC)। এই উদ্যোগে যৌথভাবে রয়েছে ন্যাশনাল হেলথ মিশন (পশ্চিমবঙ্গ), রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর আর ইকো ইন্ডিয়া।

মঙ্গলবার পুরসভার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. তপনকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, “এটা মূলত স্কুল হেলথ প্রোগ্রাম। ছাত্রছাত্রীদের শরীর এবং মন সুস্থ রাখতেই এই উদ্যোগ।” এখানে যেমন শেখানো হবে কোন কোন খাবার পুষ্টিকর, তেমনই শেখানো হবে বয়ঃসন্ধির নানা সমস্যা এবং কীভাবে তা সহজেই এড়ানো যায়। আর জি কর কাণ্ডের (R G Kar Incident) পর এহেন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সমাজের নানা ক্ষেত্রের মানুষ। পুরসভা সূত্রে খবর, প্রথম ডায়মন্ডহারবার পুলিশ জেলায় শুরু হচ্ছে এই উদ্যোগ। ডায়মন্ডহারবারের একাধিক স্কুল থেকে একশো জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের সপ্তাহে দুদিন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
[আরও পড়ুন: ‘বহুরূপী’র নয়া ঝলকে শিবপ্রসাদ-আবিরের দুর্ধর্ষ লড়াই, ভিন্নতার মোড়কে ঋতাভরী-কৌশানিও ]
শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্কুলে গিয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন ছাত্র-ছাত্রীদের। পুরো কোর্সে এগারোটি মডেল। প্রথম মডিউল, “বয়ঃসন্ধির সমস্যার সঙ্গে কীভাবে যুঝবেন?” মঙ্গলবার তা নিয়েই আলোচনা হল কলকাতা পুরসভায়। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অভয় দে জানিয়েছেন, বয়ঃসন্ধির অসংখ্য সমস্যা। এসময় একটি কিশোরী নারী হওয়ার পথে এগোচ্ছে, একজন কিশোর পুরুষ হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। এই সময় উভয়েরই বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ জন্মায়। শরীরে কিছু পরিবর্তন আসে। এগুলোকে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে দেখতে হবে। মেয়েদের ঋতুস্রাব থেকে ছেলেদের ‘যৌনস্বপ্ন’ নিয়ে ছুৎমার্গ রাখলে হবে না। সরাসরি আলোচনা করতে হবে। অপরাধবোধ কাটিয়ে বিষয়টি তাদের সহজ করে বুঝিয়ে বললে আগামীর দিন অনেক সহজ হবে।
রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর, ইকো ইন্ডিয়া, আর কলকাতা পুরসভা যৌথভাবে শুরু করছে এই স্কুল হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস প্রোগ্রাম। শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া হবে এই অনুষ্ঠানে। মূলত এই ট্রেনিংয়ে মুখ্য ভূমিকা নেবেন কলকাতা পুরসভার চিকিৎসক-প্রশিক্ষকরা। আনুষ্ঠানে ছিলেন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ, কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা চিকিৎসক ডা. তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, ইকো ইন্ডিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. সন্দীপ ভাল্লা।