অর্ণব আইচ: উইনার্স, ওয়ারিয়র্সের পর এবার কলকাতা পুলিশের মহিলা ব়্যাফ ব্যাটালিয়ন। ব়্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের সদস্যদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নারী সুরক্ষা ও আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়বে পুলিশের এই প্রমীলা বাহিনীও। মহিলা ব়্যাফের ব্যাটালিয়নে থাকছে ৮০০ জন পর্যন্ত সদস্য। খোঁজ চলছে ব্যারাকের জমির জন্য। এমনটাই জানা গেল লালবাজার সূত্রে।
লালবাজার সূত্রে খবর, রাজ্য পুলিশ থেকে যে দু’শো মহিলা পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে অন্তত ৭০ জনকে নিয়ে প্রাথমিকভাবে তৈরি হচ্ছে ব়্যাফের নতুন একটি কোম্পানি। যদিও এখন ব়্যাফের মহিলা বাহিনী রয়েছে। তা অনেকটাই ছোট। কয়েকটি সেকশন মাত্র। কিন্তু মহিলা ব়্যাফের এই সংখ্যা যথেষ্ট নয় বলে ধারণা লালবাজারের পুলিশকর্তাদের। সাধারণতঃ শহরে বড় কোনও ঘটনা ঘটলেই ব়্যাফ নামানো হয়। কিন্তু কোথাও আইন ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে অথবা বড় কোনও বিপদ আটকানোর প্রয়োজন হলে থানা বা সশস্ত্র বাহিনীর মহিলা পুলিশ মোতায়েন করা হলেও প্রয়োজন পড়ে বিশেষ পুলিশ বাহিনীর। তাই আইন ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে নামানো হয় মহিলা ব়্যাফ। এই সংখ্যা বাড়ানোর জন্য মহিলা ব়্যাফের একটি ‘কোম্পানি’ তৈরি করা হচ্ছে। চলছে তাঁদের প্রশিক্ষণ।
[আরও পড়ুন: ভাঁড়ে মা ভবানী! শিয়ালদহ স্টেশনে মাল্টিপ্লেক্স-শপিং মলের অনুমতি দিল রেল]
লালবাজারের এক কর্তা জানান, বলা যেতে পারে, মহিলা ব়্যাফের এই কোম্পানি দিয়েই ব্যাটালিয়নের কাজ শুরু হল। এবার পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় তাঁরা। এই মহিলা ব্যাটালিয়নের মাথায় থাকতে পারেন একজন ডিসি পদমর্যাদার অফিসার। এখন মহিলা ব়্যাফের জন্য যা বাহিনী রয়েছে, তার কয়েক গুণ মহিলা পুলিশকর্মী নিয়োগ করতে হবে মহিলা ব়্যাফের পুরো একটি ব্যাটালিয়ন তৈরির জন্য। কিন্ত তার আগেই পুলিশের কর্তারা তৈরি করতে চান এই ব্যাটালিয়নের ব্যারাক।
[আরও পড়ুন: CAA’র প্রচারে ‘কোমলগান্ধার’, বিবৃতি জারি করে আপত্তি তুলল ঋত্বিক ঘটকের পরিবার]
এক পুলিশকর্তা জানান, এই ব্যারাকের খোঁজ শুরু হয়েছে। কিন্তু ‘মনের মতো’ জায়গা এখনও পাওয়া যায়নি। কারণ, মহিলাদের এই বিশেষ বাহিনী যেখানে থাকবে, সেই সংলগ্ন জায়গায় তাঁদের খেলাধুলো, ব্যায়ামচর্চার ব্যবস্থাও রাখতে হবে। এমন জায়গায় হতে হবে যাতে দিন বা রাতের যে কোনও সময় ব্যারাক থেকে বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে। প্রাথমিকভাবে হেস্টিংসের পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের ব্যারাকেই মহিলা ব়্যাফের কোম্পানিকে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। লাঠি চালানোর প্রশিক্ষণ ছাড়াও প্রয়োজনমতো অস্ত্র প্রশিক্ষণ, মার্শাল আর্ট ট্রেনিংও তাঁদের দেওয়া হবে।