রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: করোনা মোকাবিলায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা শরীরের ইমিউনিটি (Immunity)বাড়াতে খাদ্যাভ্যাসে বদল আনছেন বহু মানুষ। কী খেলে করোনা হবে না? বা কীভাবে থাকলে করোনার কবল থেকে মুক্ত হওয়া যাবে তা নিয়ে চিন্তিত সকলেই। ফলে প্রোটিন যুক্ত খাবার খাওয়ার ঝোঁক যেমন অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে, আবার বিভিন্ন ওষুধের দোকান থেকে কার্যত উধাও মাল্টি ভিটামিন (Multi Vitamin) ট্যাবলেট ও সিরাপ। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে এধরনের ওষুধের চাহিদাও এখন তুঙ্গে। যদিও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদেরই পরামর্শ, এই সময় প্রোটিনযুক্ত খাবার খেয়ে শরীরের ইমিউনিটি বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু সেটা করলেই যে করোনা ভাইরাস ছোঁবে না এরকম ভাবারও কোনও কারণ নেই। তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাল থাকলে মোকাবিলা করা যাবে যে কোনও ভাইরাস, ব্যাকটিরিয়ার।
রাজ্যে করোনার প্রকোপ শুরু হয়েছে দিন পনেরো। আক্রান্তের সংখ্যাও দুইয়ের ঘরে। গত কয়েকদিনে দ্রুত হারে বাড়ছে সংক্রমণের প্রভাব, ফলে আতঙ্কে রাজ্যবাসী। লকডাউনে ঘরবন্দি থেকে সংক্রমণের সেই আতঙ্ক আরও চিন্তা বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময় ঘরে থেকে তাই ইমিউনিটি বাড়ানো যেতে পারে। যেটা আগামীদিনে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই ঘরবন্দি মানুষজনের বড় অংশই খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন করেছে। প্রতিদিনই আমিষপ্রেমীরা বেশ পরিমাণে মাছ, মাংস, ডিম খাচ্ছেন। আর নিরামিশাষীদের জন্য চলছে সয়াবিন, মসুরডাল, ছানা। মঙ্গলবার থেকে মিষ্টির দোকান খোলার সঙ্গে সঙ্গে তো টক দইয়ের চাহিদা তুঙ্গে উঠেছে। পুষ্টিকর খাবার আর ঘনঘন জল খাওয়ারও পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইমিউনিটি ঠিক রাখতে গেলে ভিটামিন সি (Vitamin-C)ও মাল্টিভিটামিন খাওয়া যেতে পারে। তবে প্রোটিনযুক্ত খাবার আর পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরিন্দম বিশ্বাস জানালেন, “প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট জাতীয় খাবার সামঞ্জস্য রেখে খেতে হবে। এটা দেখতে হবে প্রোটিনটা যেন শরীরে থাকে। তার সঙ্গে শাকসবজিও খেতে হবে ভারসাম্য বজায় রেখে। আলাদা করে কোনও মাল্টি ভিটামিন ট্যাবলেট খাওয়ার দরকার নেই।” হাওড়া পুরসভার প্রাক্তন স্বাস্থ্য অধিকর্তা শিশুচিকিৎসক শুভাশিস সরকারের কথায়, “প্রোটিনযুক্ত খাবার খেয়ে বাড়িতে বিশ্রামে থেকে এই সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে নেওয়া যেতেই পারে। তবে করোনা আটকাতে মাল্টিভিটামিন ওষুধের কোনও ভূমিকা নেই।”
[আরও পড়ুন:অসমে করোনার প্রথম বলি, শিলচরে মৃত নিজামুদ্দিন ফেরত ব্যক্তি]
প্রতিদিনের মেনুতে শাকসবজি ও ফলমূলও রাখলেও ইমিউনিটি গড়তে বাধ্য। করলা, লাল বাঁধাকপি, বিট-গাজর, টম্যাটো, ক্যাপসিকাম-সহ মরশুমি সবজি খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া, শাকের মধ্যে পালংশাক ও অন্যান্য সবুজ শাকের বিক্রিও বেড়েছে গত কয়েকদিনে। আবার ফলের মধ্যে কমলালেবু, পেঁপে, কলা, আঙুর, আম, তরমুজ খাচ্ছেন অনেকে। বিশেষজ্ঞদের কথায়, টক দই শ্বাসযন্ত্র ও গ্যাস্ট্রোইনটেসটিন্যাল সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিরোধ করে। তবে রোধ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে গিয়ে অনেকেই গুচ্ছ মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট ও সিরাপ কিনছেন ওষুধের দোকান থেকে।