Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ১৩ জুলাই ২০২৬

ভেষজ অস্ত্রেই ভাইরাস বধ, ভারতের অনুপ্রেরণায় পুরোদস্তুর আয়ুর্বেদকে ময়দানে নামাল শ্রীলঙ্কা

সুদর্শনঘনচূর্ণের মতো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে রোগীদের।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০২০, ১২:৪১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০২০, ১২:৪১

options
link
ভেষজ অস্ত্রেই ভাইরাস বধ, ভারতের অনুপ্রেরণায় পুরোদস্তুর আয়ুর্বেদকে ময়দানে নামাল শ্রীলঙ্কা zoom

গৌতম ব্রহ্ম: শুধু প্রতিরোধে নয়, চিকিৎসাতেও। ভারতের অনুপ্রেরণায় করোনা মোকাবিলায় পুরোদস্তুর আয়ুর্বেদকে ময়দানে নামাল শ্রীলঙ্কা। রোগ প্রতিরোধের লড়াইয়ে তো বটেই, কোভিড পজিটিভ রোগীদের আয়ুর্বেদ মতে চিকিৎসা পরিষেবাও দিতে শুরু করেছেন দ্বীপরাষ্ট্রের চিকিৎসকরা।

বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রকের আধিকারিক ডা. টি বীরারত্ন। ‘সংবাদ প্রতিদিন’-কে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কোভিড-১৯ (COVID-19) একেবারে নতুন রোগ। এর চিকিৎসা সম্পর্কে মডার্ন মেডিসিনের বিশেষ কোনও ধারণা এখনও নেই। উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা থাকলেও কোনও ওষুধ সেভাবে বার হয়নি। যেখানে আয়ুর্বেদে ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের চিকিৎসার নির্দিষ্ট নিদান রয়েছে। তাই সংকটজনক করোনা রোগী ছাড়া বাকিদের আয়ুর্বেদিক ওষুধই খাওয়ানো হচ্ছে।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: উপসর্গের আগেই মারমুখী সংক্রমণ নোভেল করোনার, গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য]

শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনীর ডাক্তাররা ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের প্রোটোকল মেনে কোভিড রোগীদের চিকিৎসা শুরু করেছেন। বীরারত্নের দাবি, আয়ুর্বেদ ওষুধ সেবনে দ্রুত সংক্রমণমুক্ত হচ্ছেন রোগীরা। শ্রীলঙ্কার আয়ুর্বেদ নীতিকে স্বাগত জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় আয়ুশসচিব ডা. রাজেশ কোটেচা। তিনি বলেন, ‘‘এই বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ‌্য আমাদের কাছে নেই। তবে ভারতের প্রোটোকল অনুসরণ করে কোভিড চিকিৎসায় শ্রীলঙ্কা আয়ুর্বেদ ব‌্যবহার করলে তা হবে নতুন দৃষ্টান্ত। উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে
শ্রীলঙ্কায় কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগী প্রায় আড়াইশো। মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ্রা রাজাপক্ষে গোড়া থেকে কড়া হাতে করোনা মোকাবিলায় তৎপর। নামানো হয়েছে ১০ হাজার ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মীকে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে সেনা। শ্রীলঙ্কার কোয়ারেন্টাইন সেন্টার ও হাসপাতালগুলিকে সেনার হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছে। ২০ মার্চ থেকে জারি করা হয়েছে ন্যাশনাল কারফিউ। এমতাবস্থায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দেশের অগ্রগণ্য ৬০ জন আয়ুশ চিকিৎসকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্য ও স্বদেশি ওষুধমন্ত্রী পবিত্র ওয়াননিয়ারাচ্চি এবং শ্রীলঙ্কার ‘ন্যাশনাল অপারেশন সেন্টার ফর প্রিভেনশন অফ কোভিড-১৯ আউটব্রেক’ (এনওসিপিসিও)-এর প্রধান তথা শ্রীলঙ্কার সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাভেন্দ্রা সিলভা। গড়া হয় ‘প্রেসিডেন্সিয়াল টাস্ক ফোর্স।’ এদের নেতৃত্বেই চলছে করোনা-যুদ্ধ। ডা. টি বীরারত্ন জানিয়েছেন, আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেই জাতীয় প্রোটোকল তৈরি হয়েছে। এবং খাওয়ার ওষুধের পাশাপাশি ন্যাচারোপ্যাথিও প্রয়োগ করা হচ্ছে। যেমন, স্টিম ইনহেলেশন বা বাষ্পস্বেদ। নাক-মুখ দিয়ে গরম বাষ্পগ্রহণ। এতেই নাকি জব্দ হচ্ছে নোভেল করোনা।

ayurveda

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল জার্নালে একটি চিনা গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। তাতে দাবি করা হয়, বারোটি ভেষজ সমৃদ্ধ ক্বাথ বা পাচন খাইয়ে করোনামুক্ত করা হয়েছে বহু রোগীকে। খবরটি ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এ প্রকাশিত হয়। সাড়ে সাত হাজার আয়ুশ চিকিৎসক ওই খবরের সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আবেদন জানান, করোনা-যুদ্ধে আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের যুক্ত করা হোক। ২৮ মার্চ মোদি দেশের তাবড় আয়ুশ-চিকিৎসকদের নিয়ে ভিডিও কনফারেন্স করেন।
তৈরি হয় জাতীয় আয়ুশ প্রোটোকল। কেরল, হরিয়ানা, জম্মু-কাশ্মীর, গোয়া সেই প্রোটোকল মেনে করোনা-যুদ্ধে শামিল সেনানীদের আয়ুর্বেদ ওষুধ খাওয়াতে শুরু করে।

এরপরই শ্রীলঙ্কা সরকার করোনা-মোকাবিলায় আয়ুর্বেদকে অন্যতম অস্ত্র করার প্রস্তুতি নেয়। ভারতের আয়ুর্বেদ প্রোটোকল থেকেই যে শ্রীলঙ্কা শিক্ষা নিয়েছে, তা স্বীকার করে বীরারত্ন বলেছেন, “এ দেশের বেশিরভাগ আয়ুর্বেদ চিকিসৎক ভারতীয় ডিগ্রিধারী। তাই ভারত প্রোটোকল তৈরি করায় আমাদের সুবিধা হয়েছে।” কী ওষুধ দিচ্ছে শ্রীলঙ্কা?

[আরও পড়ুন: বাতকর্ম থেকেও ছড়াতে পারে করোনা ভাইরাস? জানুন বিশেষজ্ঞদের মতামত]

জানা গিয়েছে, সুদর্শনঘনচূর্ণের মতো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। বিল্বাদি গুটিকা, ষড়াঙ্গ কষায়ও প্রয়োগ হচ্ছে। উপরন্তু ভাইরাস-বধের লক্ষ্যে ব্যবহার হচ্ছে অপরাজিতা ধূপনের মতো ভেষজ-অস্ত্র। পশ্চিমবঙ্গের দুই আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ডা. সুমিত শূর ও বিশ্বজিৎ ঘোষ জানিয়েছেন, গুগ্গুল, ধুনো, নিম, আকন্দ, দেবদারু ও অগুরু কাঠের চূর্ণ মিশিয়ে এই ধূপ তৈরি করা হচ্ছে। বাড়ি-ঘর জীবাণুমুক্ত করতে তা খুবই কার্যকর। এছাড়া করোনা প্রতিরোধে নীলগিরি তেল সহযোগে বাষ্পস্বেদ করানো হচ্ছে লঙ্কাবাসীদের। খাওয়ানো হচ্ছে গুরুচি ও অশ্বগন্ধা চূর্ণও।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.