Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
Village of Books

সোশ্যাল মিডিয়ার দাপটেও রাস্তার মোড়ে মোড়ে ‘বইঘর’, জানেন ভারতের এই ‘বইগ্রামে’র কথা?

গান্ধীজির মৃত্যুশোকে আশ্চর্য সিদ্ধান্ত, বদলে গেল গ্রাম!

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২, ২০২২, ২১:১৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২, ২০২২, ২১:১৬

options
link
সোশ্যাল মিডিয়ার দাপটেও রাস্তার মোড়ে মোড়ে ‘বইঘর’, জানেন ভারতের এই ‘বইগ্রামে’র কথা? zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতা বইমেলা শুরু হয়ে গেছে। কোভিডের কারণে এবারের মেলা হচ্ছে পাক্কা দু’বছর পর। বহুদিন পর শুধু বইয়ের জন্য একমাঠ মানুষের ভিড়! ফের ভেসে উঠছে মেলা প্রাঙ্গণের চেনা ছবি- প্রেম-আনন্দ-বইচই! সোশ্যাল মিডিয়ার দাপটের যুগে যা আনন্দ দিচ্ছে খাঁটি বইপ্রেমীদের। তবু, এরাজ্যের (হয়তো বা গোটা দেশেই) গ্রন্থাগারগুলির ভগ্নদশা দেখে মন খারাপ হতে বাধ্য। অনেকেই বলছেন, অন্তর্জালের তথ্য ভাণ্ডারেই খুশি নবীন প্রজন্ম, সাহিত্য নিয়ে উৎসাহ কমছে, যদি না চমকদার কিছু হয়। এই হিসেবকেই মিথ্যে প্রমাণ করে দিয়েছে কেরলের (Kerala) গ্রাম পেরুমকুলম (Perumkulam)। যার ডাকনাম ‘বইগ্রাম’। কীভাবে ‘বইগ্রাম’ হয়ে উঠল পেরুমকুলম?

সে অনেক কাল আগের কথা, সে ছিল ঘোর কালো দিন। দিনটা ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি। উগ্রহিন্দুত্ববাদী নাথুরম গডসের গুলিতে প্রাণ হারালেন মহাত্মা গান্ধী। আচমকা শোকসংবাদে বিষাদগ্রস্ত গোটা দেশ৷ তীব্র মন খারাপ হয় কেরলের ছোট্ট গ্রাম পেরুমকুলমেরও। কিন্তু কেবল মন খারাপ করে বসে থাকলেন না এই গ্রামের যুবকরা। ঠিক করলেন পালটা কিছু করতে হবে। এমন কাজ- যাতে করে মহান দেশনায়ককে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনও করা যাবে, এইসঙ্গে উপকৃত হবে সমাজ ও সভ্যতা৷ অতএব, পেরুমকুলমের বাসিন্দা কৃষ্ণা পিল্লাই নামের এক যুবক ও আরও কয়েকজন মিলে বেশ কিছু বই কিনে ফেললেন। গ্রামবাসীদের থেকে সংগ্রহ করলেন আরও কিছু বই৷ সব মিলিয়ে শ-খানেক বই হল। সেই বই রাখা হল পিল্লাই পরিবারেরই একটি ঘরে৷ এভাবেই স্থাপিত হল পেরুমকুলমের প্রথম গ্রন্থাগার৷ গ্রন্থাগারের নাম দেওয়া হল ‘বাপুজি মেমোরিয়াল লাইব্রেরি’৷ কিন্তু একটি মাত্র গ্রন্থাগারের জন্য তো ‘বইগ্রাম’ হয়ে উঠতে পারে না কোনও গ্রাম। কীভাবে এল সেই স্বীকৃতি?

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: বাড়ছে যুদ্ধের ঝাঁজ, চার ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত ভারতীয়কে খারকভ ছাড়ার নির্দেশ কেন্দ্রের]

কাট টু ২০১৬ সাল৷ মাঝে গড়িয়ে গিয়েছে ৬৯ বছর। এতদিনে বাপুজি মেমোরিয়াল লাইব্রেরি হয়ে উঠেছে অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাগার৷ বইয়ের প্রচার ও প্রসারে মিলছে বিবিধ অনুদান। আজকের প্রজন্ম ঠিক করল, গোটা পেরুমকুলমকেই এবার ‘গ্রন্থাগার’ করে গড়ে তোলা হবে৷ কীভাবে তা হবে?

গ্রামের রাস্তার মোড়ে মোড়ে ছোটো ছোটো ‘বইঘর’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হল৷ কাজও হল সেইমতো। আসলে রাস্তার পাশে গড়ে তোলা হল ছোট সাইজের বুকসেল্ফ৷ ওই বুকসেল্ফের দরজা খুলে বই নেওয়া যায়, ফের বন্ধ করে দিলেই ভেতরে নিরাপদ বই৷ কাঠের বাক্সের আকারের বুকসেল্ফটি যাতে করে বৃষ্টিতে ভিজে না যায়, যাতে করে বইয়ের ক্ষতি না হয়, তার জন্য ব্যবস্থা হল উপযুক্ত আচ্ছাদনেরও৷

[আরও পড়ুন: কৃষ্ণ সাগরে রুশ যুদ্ধজাহাজ ঢুকতে দিল না তুরস্ক, অস্বস্তি বাড়ল পুতিনের]

পেরুমকুলমের পথের পাশের একেকটি বইঘরে থাকে ৫০টি করে বই৷ পথ-গ্রন্থাগার থেকে বই নিয়ে পড়ার এক অভিনব নিয়মও রয়েছে৷ এখান থেকে বই নিয়ে পড়তে পয়সাও লাগে না ৷ পুরো ফ্রি। তবে বইঘরে নিজের একটি বই রাখলে তবেই সেখানে থেকে পাঠক সংগ্রহ করতে পারেন একটি বই।

নিঃসঙ্গ নয় কেরলের পেরুমকুলম, মহারাষ্ট্রের ভিলহারও নিজেকে ‘বইগ্রাম’ হিসেবে প্রমাণ করেছে। যদিও সেখানে বইঘরের মতো অভিনব কাণ্ড ঘটেনি। তবে আসল জায়গায় রয়েছে মিল। মোদ্দা কথা তো বইকে ভালবাসা, আলোর জানলা খোলার মতো করে বইয়ের মলাট খুলে বসা! ভিলহারের মানুষ তাই করে। এই গ্রামের প্রায় সকলেই বইপ্রেমী, গভীর পাঠক। ফেসবুক, হোয়াটঅ্যাপ, ইউটিউবের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার প্রকাণ্ড দাপটের যুগেও!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.