সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দুবাইয়ে চাকরির টোপ দিয়ে পাকিস্তানে নিয়ে গিয়েছিল ট্রাভেল এজেন্ট। তার পর আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি হামিদা বানোর। দীর্ঘ ২২ বছর ভিন দেশে আটকে থাকার পর অবশেষে ভারতে ফিরে এলেন ৭০ বছর বয়সি হামিদা বানো। তাও আবার সোশাল মিডিয়ার দৌলতে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০০২ সালে। দুবাইয়ে রান্নার চাকরি পেতে এক এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন মুম্বইয়ের কুর্লার বাসিন্দা হামিদা বানো। তবে দুবাইয়ের বদলে হামিদাকে পাকিস্তানে পাঠায় ওই এজেন্ট। বেআইনিভাবে পাকিস্তানে এসে গ্রেপ্তারের ভয়ে পুলিশকে কিছু জানাননি মহিলা। ওই অবস্থাতেই পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের হায়দরাবাদে লজেন্স বিক্রি করে কোনওমতে দিন গুজরান করতে থাকেন তিনি। ওখানে থাকাকালীন করাচির বাসিন্দা এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক হয় হামিদার। তাঁকে বিয়ে করে তাঁর সঙ্গে থাকতে শুরু করেন।
তবে করোনাকালে মৃত্যু হয় হামিদার স্বামীর। এর পর সৎ ছেলের সঙ্গে থাকলেও লজেন্স বিক্রির পেশা চালিয়ে যায়। সেই সুবাদের অবশেষে স্বদেশে ফিরে আসতে সক্ষম হলেন তিনি। আসলে হামিদার কাছে লজেন্স কিনতে আসত এক বালক। পড়াশোনা শেষ করার পর নিজের সোশাল মিডিয়া চ্যালেনে লজেন্স বিক্রেতা হামিদার ইন্টারভিউ করে সে। যা ভাইরাল হয় সোশাল মিডিয়ায়। ২০২২ সালে সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমেই ভারতে অবস্থিত হামিদার সন্তানরা জানতে পারেন তাঁদের মা পাকিস্তানে রয়েছে। সেই ভিডিও নজরে পড়তেই হামিদার সন্তানরা পাকিস্তানে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এবং তাঁকে আর্থিক সাহায্য পাঠান।
পাকিস্তানের আধিকারিকদেরও নজরে পড়ে ভিডিওটি। তারাও তৎপর হন হামিদা যাতে ভারতে ফিরে আসতে পারেন। সেইমতো শুরু হয় প্রক্রিয়া। পাকিস্তানের টিভি চ্যানেলেও দেখানো হয় এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে গত সোমবার ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফিরে আসেন সত্তর বছর বয়সি হামিদা। তাঁকে ভারতে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রকের এক আধিকারিক। দীর্ঘ ২২ বছর পর দেশের মাটিতে পা রেখে এবং সন্তানদের ফিরে পেয়ে আপ্লুত ৭০-এর বৃদ্ধা হামিদা।
সর্বশেষ খবর
-
আপনার এই মাস এপ্রিল ২০২৬, মকর রাশি
-
কোথায় রাখবে এত লজ্জা! টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের কাছে অষ্টমবার হার পাকিস্তানের
-
আইপ্যাক অভিযানে কারা? পরিচয় জানতে ইডিকে চিঠি দিচ্ছে লালবাজার, শুরু CRPF-দের শনাক্তকরণও
-
নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে আচমকা দুঃসংবাদ, অনুশীলনে চোট পেলেন পন্থ
-
বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেশে ভোট পড়েছে ৫৭.৭ শতাংশ, এগিয়ে বাংলা, জানাল কমিশন