স্টাফ রিপোর্টার: নিশ্বাস নিতে পারতেন না। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে কপালে ঘাম জমত। সবসময়ই মনে হত পেট ভর্তি। তা তো হবেই। বসিরহাটের শের আলি সাঁপুই (৫০) এর পেটে যে লুকিয়ে ছিল পেল্লায় আকারের এক মাংসপিণ্ড। আচমকা তাঁর ওজন বেড়ে যাওয়ায় ভয় পেয়ে গিয়েছিল পাড়া প্রতিবেশীরাও। আলির পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, “ডাক্তারখানায় ওজন যন্ত্রে ওজন নিতে গিয়ে দেখি শরীরে ওজন বেশি দেখাচ্ছে। কিন্তু ও এমন কিছু খাবার খেত না।” এর পরেই পরীক্ষা করে দেখা যায় পেটের মধ্যে লুকিয়ে বিশাল এক টিউমার।
[ইছাপুর রাইফেল কারখানা থেকে অস্ত্র পাচার, কড়া পদক্ষেপ ওএফবি-র]
চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলে লাইপোসারকোমা। মূলত চর্বিযুক্ত টিস্যু নিয়েই তৈরি এই টিউমার। প্রকাণ্ড এই মাংসপিণ্ড পাকস্থলীর সিংহভাগ অংশ জুড়ে ছিল। অস্ত্রোপচার করতে শহরের একাধিক হাসপাতালে ঘুরেছেন তিনি। কিন্তু তিন হাসপাতাল তাঁকে ফিরিয়ে দেয়। রোগীর পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, প্রকাণ্ড এই টিউমারের অস্ত্রোপচার করতে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। রোগীকে দীর্ঘক্ষণ অজ্ঞান করে রাখতে হয়। অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসকদের আশঙ্কা ছিল এত বড় অস্ত্রোপচারের ধকল সইতে পারবে না আলির শরীর। দীর্ঘদিন ধরেই ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া না করে এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন আলি। অবশেষে সল্টলেকের বেসরকারি এক হাসপাতালে সোমবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ আলির শরীরে অস্ত্রোপচার করেন ড. জে কে শাহ। টানা দেড় ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের শেষে পাকস্থলী থেকে যে মাংসপিণ্ডটি বেরিয়েছে তার ওজন ১৯ কেজিরও বেশি। খাদ্যনালি থেকে তলপেট পর্যন্ত পেঁচিয়ে ছিল টিউমারটি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শরীরে কোনও অংশ বাদ না দিয়েই টিউমারটিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আপাতত সুস্থ আছেন আলি। হাসপাতালের বেডে শুয়েই তিনি জানিয়েছেন, “ভাবিনি আবার সুস্থ হয়ে উঠব। ডাক্তারবাবুর কৃতিত্বে এখন ভাল আছি।”
তাই দেখতে রোগাপাতলা অথচ ওজন বেশি কিন্তু সবসময় সুস্থতার লক্ষণ নয়। গায়ে পায়ে মাংস নেই, এদিকে দিনের পর দিন বাড়ছে ওজন। এমন চলতে থাকলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কখন কি থেকে কি হয়ে যায়, কেই বা বলতে পারে।