সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মুম্বইয়ের খ্যাতনামা ডাব্বাওয়ালাদের টিফিন সরবরাহে বড়সড় পরিবর্তন আসছে। চিরাচরিত সাইকেল ছেড়ে দেশের বাণিজ্যনগরীর ডাব্বাওয়ালারা এবার বাইকে চড়ে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁচে দেবেন টিফিন। মূলত কম সময়ে আরও বেশি মানুষের হাতে লাঞ্চ পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে ডাব্বাওয়ালাদের শারীরিক পরিশ্রমও কম হবে। তবে সব ডাব্বাওয়ালাই সাইকেল ছাড়ছেন এমন নয়। মুম্বইয়ের বেশকিছু রাস্তায় বাইকের প্রবেশে বিধি নিষেধ রয়েছে। সেখানে সাইকেল ছাড়া গতি নেই। তাছাড়া ট্রাফিক জ্যামে এই সাইকেলই একমাত্র বাহন যা অবাধে চলাফেরা করতে পারে। সময়ে অফিসযাত্রী হাতে তুলে দিতে পারে বাড়ির গরমাগরম খাবার।
[দুমকা কোষাগার মামলায় ৭ বছরের জেল লালুর]
উল্লেখ্য, ১২৫ বছর ধরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলছে মুম্বইয়ের ডাব্বা পরিষেবা। সে গরমে তেতে যাওয়া মুম্বই হোক বা বন্যায় ভেসে যাওয়া শহর। কখনওই ডাব্বাওয়ালারা তাঁদের কাজে ইতি টানেন না। প্রতিদিন এভাবেই প্রায় এক লক্ষ মানুষের হাতে টিফিনের বাক্স তুলে দেন মুম্বইয়ের ডাব্বাওয়ালারা। এই তালিকায় অফিসকর্মীর পাশাপাশি স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীও রয়েছে। মুম্বইবাসীর কাছে ডাব্বাওয়ালার থেকে বড় ভরসার জায়গা আর কিছু নেই। ঠিক সময়ে বাড়ির প্রিয় টিফিন পৌঁছে যাবে অফিসকর্মীর কাছে। পরিচিত ডাব্বাওয়ালা কখনওই অমিতবাবুর টিফিন রাজেনবাবুর হাতে তুলে দেবেন না। এতদিনে অন্তত তেমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। এখনও মুম্বইবাসীর কাছে তাই ডাব্বাওয়ালাই সবথেকে বড় বল ভরসা।
এমনিতে এক একটি সাইকেলে ৬০টি করে ডাব্বা এঁটে যায়। সকাল সকাল প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সেরে নির্দিষ্ট বাড়ি থেকে ডাব্বা তুলে সাইকেল নিয়ে রওনা হয়ে যান ডাব্বাওয়ালা। একদিনও এর ব্যাতিক্রম ঘটে না। যেখানে একটা সাইকেল ৬০-টি ডাব্বা এঁটে যায়। সেখানে বাইকে আঁটে ১৫০ ডাব্বা। স্বাভাবিকভাবে ব্যবসাকে আরও গতিময় ও জনপ্রিয় করে তুলতে বাইকের জুড়ি নেই। কায়িক পরিশ্রমও অনেক কম হয়। নানা দিকের ভাবনাচিন্তা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, মুম্বইয়ের ডাব্বাওয়ালাদের জগৎজোড়া খ্যাতি রয়েছে। কী করে এই সাধারণ ডাব্বাওয়ালারা হাজার হাজার ডাব্বা সময়ের মধ্যে সঠিক লোকের হাতে পৌঁছে দেয়, তা নিয়ে অনেক বিচার বিশ্লেষণ, আলাপ আলোচনা, পর্যালোচনা হয়েছে। বাঘা বাঘা ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞরাও ডাব্বাওয়ালা প্রশ্নে প্রশংসায় পঞ্চমুখ। গ্লোবাল বিজনেস স্কুলগুলিতেও ডাব্বাওয়ালাদের এই অভিনব ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতি খ্যাতি অর্জন করেছে। তাই সিলেবাসের বাইরে থেকেও ম্যানেজমেন্ট পড়ুয়াদের কোর্সে অন্তর্ভুক্তি ঘটেছে ডাব্বাওয়ালাদের। বিশ্বের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের খ্যাতিও কুড়িয়ে নিয়েছেন মুম্বইয়ের ডাব্বাওয়ালারা। তালিকায় রয়েছেন রিচার্ড ব্রানসন, প্রিন্স চার্লসের মতো হেভিওয়েটরা। অতি অল্প সময়ে মুম্বইয়ের বৃহদাংশের প্রয়োজনীয় হয়ে উঠে ডাব্বাওয়ালারা জিতে নিয়েছেন গ্লোবাল বিজনেস ফ্যান ক্লাবের শংসাপত্রও।