গৌতম ব্রহ্ম: শিরোনাম পড়ে চমকে উঠবেন না যেন! হ্যাঁ, এমনটা যে হতে পারে সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন পুরুলিয়ার হাবু গোপ। হাবুর কোমরের ডান দিক থেকে এমন একটা টিউমার বেরিয়েছিল যা অবিকল গরুর শিংয়ের মতোই দেখতে। শিংয়ের দৈর্ঘ্য প্রায় আট সেন্টিমিটার, ব্যাসার্ধ দশ সেন্টিমিটার। শিংয়ের উপরের অংশ হাবু ভেঙে না ফেললে দৈর্ঘ্য হত ১৮ সেন্টিমিটার! সেক্ষেত্রে হয়তো বিশ্ব রেকর্ড গড়তেন পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো হাসপাতালের সার্জন ডা. পবন মণ্ডল।
[পোল্ট্রি ফার্মে চটজলদি মুরগিকে তাগড়াই বানাতে কী ব্যবহার হয় জানেন?]
বছর দু’য়েক আগে হাবুর কোমরে একটি ফুসকুড়ি হয়েছিল। সেটি নখ দিয়ে খুঁটে ফেলেছিলেন পুরুলিয়ার চাকলাতোড় গ্রামের বাসিন্দা ওই দিনমজুর। শহরের বিশেষজ্ঞ সার্জনরাও জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রণ বা ফুসকুড়ি যে কত ভয়ানক হতে পারে তার টাটকা উদাহরণ হাবু গোপ। হাবুর সেই শিং পরীক্ষার জন্য ‘হিস্টোপ্যাথলজি ল্যাবরেটরি’-তে পাঠানো হয়েছে। কয়েকদিন পর জানা যাবে, টিউমারটি ‘বিনাইন’ না ‘কার্সিনোজেনিক’। এমনটা জানিয়েছেন হাবুর সার্জেন ডা: পবন মণ্ডল। তিনি জানিয়েছেন, এই টিউমারটির নাম ‘সেবাসিয়াস হর্ন’। ঘর্মগ্রন্থী থেকে সংক্রমণ হয়ে প্রথমে ব্রণ বা ফুসকুড়ি তৈরি হয়। সময়মতো চিকিৎসা না করালে ‘সুপার ইনফেকশন’ হয়ে সেই ব্রণই প্রথমে সিস্ট বা থলি, তারপর শিংয়ের মতো টিউমারের জন্ম দিতে পারে।” হাবুর ক্ষেত্রেও অবহেলা কাজ করেছে। দু’ বছর ধরে নখ দিয়ে ক্রমাগত খুঁটে গিয়েছেন টিউমারটি। সঙ্গে চলেছে ঘরোয়া টোটকা। হাবু ভেবেছিলেন, নিজে থেকেই খসে যাবে ওই টিউমার। কিন্তু তা হয়নি। বরং আকারে বড় হয়ে ক্যানসারের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
[বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে ভাড়াটিয়াকে শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগ, সিঁথিতে চাঞ্চল্য]
হাবুর ঘটনা বিরল। কিন্তু ব্রণ বা ফুসকুড়ি নিয়ে খোঁটাখুঁটি করলে এমনটা হতেই পারে। জানিয়েছেন সার্জনরা। পিজি হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. মাখনলাল সাহা জানালেন, ‘এই ধরনের টিউমার খুব ভয়ানক, তা বলব না। তবে, বেশিদিন অবহেলা করলে ক্যানসারের জন্ম দিতেই পারে। অতএব ব্রণ বা ফুসকুড়ি নিয়ে সাবধান।” একই বক্তব্য দিল্লি এইমসের সার্জন ডা. ধৃতিমান মৈত্রর। তিনি জানালেন, ‘সেবাসিয়াস গ্রন্থিতে সিবাম ও পুঁজ জমে এই টিউমারের জন্ম। মাথা, কপাল, নাক-কান-গলাতেই বেশি হয় এই ‘সেবাসিয়াস হর্ন’। তবে, কোমর, পেট এমনকী পুরুষাঙ্গেও গজাতে পারে এই শিং।’
[ট্যারান্টুলা মাকড়সার কামড়ে মৃত্যু! হুগলিতে প্রবল আতঙ্ক]