স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: সাতসকালে ধরা পড়ল চোর। খালি পেটে গৃহস্থ বাড়িতে চুরি করতে আসায় তাকে বসিয়ে চা-পানে আপ্যায়ন করা হল। তারপর খবর দেওয়া হয় পুলিশে। সাতসকালে পুলিশ এলে তাঁদেরকেও চা-বিস্কুটে আপ্যায়িত করেন গৃহকর্ত্রী। তারপর চোর বাবাজিকে তুলে দেওয়া হয় সিউড়ি থানার পুলিশের হাতে।
[ ত্রিশূল হাতে রাম নবমীর মিছিল, লকেটের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের পুলিশের ]
সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে সিউড়ির কলেজ পাড়ায়। সেখানকার বাসিন্দা সীমা মণ্ডল রোজকার মতো সোমবারও সবার আগে ঘুম থেকে উঠেছিলেন। প্রাথমিক কাজ শেষ করে পরিবারের সবার জন্য চা তৈরি করছিলেন। সে সময় তিনি লক্ষ্য করেন ছাদের দিক থেকে এক যুবক নেমে বাড়ির একটি ঘরে ঢুকছে। ব্যাপারটি যে ঠিক কী, তা বুঝতে দেরি হয়নি সীমাদেবীর। যুবকটি ঘরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে খুব ধীরে ধীরে ওই ঘরটির দরজা বন্ধ করে বাইরে থেকে শেকল তুলে দেন সীমাদেবী। সাতসকালে ঘরের ভিতরে আটকে পড়ে চোর। এরপর হাঁকডাক করে বাড়ির সবাইকে ঘুম থেকে তোলেন। পরিবারের সবাই এক জায়গায় জমা হতেই সেই ঘর থেকে বের করা হয় চোরকে। জিজ্ঞাসাবাদে বাড়ির গৃহিণী জানতে পারেন, ওই যুবকের নাম জুয়েল শেখ। বাড়ি সিউড়ি থানায় হাটজান বাজারের তালবোনায়। রাতভর বেশ কয়েক বাড়িতে চুরির চেষ্টা করে। কিন্তু কোথাও সুবিধা করতে পারেনি। ফলে রাতভর পেটে পড়েনি কোনও দানা-পানি। পেটের টানেই তাই এদিন ভোরে শেষ চেষ্টা হিসাবে হানা দিয়েছিল কলেজপাড়ায় সীমাদেবীর বাড়িতে। খালি পেটেই চুরি করতে এসেছে সে।
[ রাম নবমীর শোভাযাত্রায় মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাপানউতোর পুরুলিয়ায় ]
এ কথা শোনার পর বানানো চা ও বিস্কুট খাওয়ানো হয় তাকে। তবে ধরা পরে চোর পালানোর চেষ্টা করেনি বলে দাবি সীমাদেবীর। চৈত্রের সকালে এমন অতিথি-সেবার সুযোগ হাতছাড়া করেননি সীমাদেবী। এ-সময় খবর দেওয়া হয় সিউড়ি পুলিশকে। চোরের পাশাপাশি পুলিশকেও চা-বিস্কুটে আপ্যায়ন করা হয়। এরপর পুলিশ এলে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় জুয়েলকে।
ছবি: বাসুদেব ঘোষ