সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: শরীরে বাসা বাঁধছে মারণ করোনা ভাইরাস। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অন্তত ১০-১৫ দিন থাকার পর সে বিদায় নিচ্ছে। রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পর স্বস্তি ফিরছে রোগীর পরিবারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এখানেই ঘটনার হ্যাপি এন্ডিং হচ্ছে না। কারণ নয়া গবেষণা সে এত সহজে বিদায় নেওয়ার পাত্র নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুস্থ হওয়ার মাস খানেকের মধ্যেই নাকি শরীরে ফের কোভিড-১৯-এর উপসর্গ দেখা দিচ্ছে।
একটি ইংরাজি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা গিয়েছে, কোভিড-১৯-কে (COVID-19) হারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের মধ্যে ৭৫ শতাংশরই দেহে ফের করোনার উপসর্গ ধরা পড়েছে। তাও আবার নেগেটিভ হওয়ার মাস খানেকের মধ্যেই। অর্থাৎ বেশ কয়েকদিনের চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ফিরেও পিছু ছাড়ছে না এই অদৃশ্য ভাইরাসের লক্ষণ। গবেষণা বলছে, নতুন করে যে উপসর্গ দেখা দিচ্ছে তা অনেক সময় ৩ মাসও থাকছে শরীরে।
[আরও পড়ুন: অক্টোবরের মধ্যেই বাজারে আসবে করোনার ভ্যাকসিন, এবার দাবি মার্কিন সংস্থার]
ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলের এক হাসপাতালে হয় এই গবেষণা। যেখানে করোনা আক্রান্ত হয়ে ভরতিদের উপর নজর রাখা হচ্ছিল। সেখানেই দেখা যায়, যে সমস্ত রোগী কোভিড নেগেটিভ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন তাঁদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই এখনও করোনার উপসর্গে ভুগছেন। নর্থ ব্রিস্টল NHS ট্রাস্টের গবেষকদের দলটি পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে, ১১০ জন রোগীর মধ্যে ৮১ জনই করোনামুক্ত হওয়ার পর থেকে অসুস্থ। এই সংক্রমক রোগের প্রভাব এখনও তাঁদের শরীরে রয়ে গিয়েছে। যার জন্য দ্বিতীয়বার চিকিৎসার জন্যও এসেছেন তাঁরা।
রোগমুক্ত হওয়ার পর সাধারণত কী কী উপসর্গ দেখা দিচ্ছে? গবেষণায় দাবি, মূলত শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ক্লান্তি, পেশীতে যন্ত্রণার মতো উপসর্গ বেশি লক্ষণীয়। সময়ের সঙ্গে আবার অনেকের জ্বর, কাশি, স্বাদহীনতার মতো উপসর্গও দেখা দিচ্ছে। অনেক রোগী আবার জানিয়েছেন, করোনামুক্ত হওয়ার পর সামান্য কাজ করতে গেলেই হাঁপিয়ে উঠছেন। অনেকে আবার অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। এমনকী মাথার চুলও উঠে যাচ্ছে! এককথায় স্বাভাবিক জীবনে ফেরা বেশ কঠিন অনুভূত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁদের করোনা জয়ের পর এমন উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একই কারণে কিন্তু দিল্লির এইমসেও (AIIMS) পোস্ট-কোভিড কেয়ার সেন্টার চালু করা হয়েছে।