সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ১ বৈশাখ। হালখাতা-মিষ্টিমুখে বাঙালির উদযাপন। মন্দিরে মন্দিরে পুজোর ভিড়। এই যদি বাঙালির আবেগের ছবি হয়, তবে তার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী জড়িয়ে থাকবে ফুটবল এবং বর্ষশুরুর বারপুজো। এবছরও তার ব্যতিক্রম নেই। চিরায়ত ময়দানি রেওয়াজে বারপুজো সেরেই বছরের পথ চলা শুরু হল মোহনবাগানে।
[ বৃষ্টিই কাল হল! ঘরের মাঠে হায়দরাবাদের কাছে হার নাইটদের ]
পয়লা বৈশাখ যেন একদিনের বাঙালিয়ানা! এহেন কটাক্ষ প্রায়শই শুনতে হয় বাঙালিকে। তার অবশ্য কারণও আছে। হ্যাপি নিউ ইয়ারের ধাক্কায় বাংলা বছর বেশ জবুথবু ইদানিং। বাঙালিয়ানার মুদ্রাগুলি তাই বছরভর যে ম্রিয়মান হয়েই থাকে, তা অস্বীকার করা যায় না। তবে সারা বছর বাঙালিকে যে আবেগে বেঁধে রাখে তা হল ফুটবল। নিঃসন্দেহে বাঙালিয়ানার অন্যতম স্মারক এই ফুটবলপ্রীতি। এর কোনও বিকল্প নেই। আজও ময়দানে ফুটবল মানেই চর্চায়-তর্কে মাতোয়ারা বাঙালি। আর যে কোনও ফুটবলপ্রেমীর কাছেই বাংলা বছরের প্রথম দিনটি অন্য মাত্রা বহন করে আনে। কারণ দিনটি বারপুজোর। সকাল সকাল উদ্যোক্তারা পৌঁছে যান ক্লাবে ক্লাবে। বার পুজো হয় রীতি মেনেই। আসলে ময়দান সেনার সম্পত্তি। তাই এককালে মাস তিনেক বন্ধ থাকত খেলাধুলো। ময়দান চলে যেত পুরোপুরি সেনাদের দখলে। বৈশাখের আগে তিন মাস তাই সবই থাকত বন্ধ। এই বৈশাখ থেকেই ফের খেলাধুলোর শুরু। বার পুজো করেই শুরু হত নতুন যাত্রা। এখন অবশ্য আর ময়দান আগের মতো বন্ধ থাকে না। তবে বারপুজোর এই রীতি থেকে গিয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী মোহনবাগান ক্লাব ১৪২৫-এর শুরুটা করল ঐতিহ্যের অনুসারী হয়েই। খেলোয়াড়দের প্রায় প্রত্যেকেই এখন ভুবনেশ্বরে। সুপার কাপের ব্যস্ততা চলছে। তবে এদিন সকাল সকাল ক্লাবে পৌঁছে গিয়েছিলেন অন্যতম কর্মকতা সৃঞ্জয় বোস। ফুল-পাতায় ততক্ষণে সেজে উঠেছে তিন কাঠি। ধূপের ধোঁয়ায় চেনা ময়দানে অন্য আবেশ। প্রথা মেনেই প্রতিবারের মতো এবারও পুজো দিলেন সৃঞ্জয়বাবু।

বারপুজোর মতো ময়দানি রেওয়াজ বাঙালির একেবারে নিজস্ব রীতি। ভিনদেশী সংস্কৃতির ঢেউয়ে যতই উথালপাথাল হোক না কেন, বাঙালির কাছে এ আবেগের মাত্রাই আলাদা। ক্লাব তাঁবুতে তাই এদিন সকাল সকাল জলখাবারের আয়োজন। একেবারে ঘরোয়া পরিবেশ। হিসেবনিকেশ একটু সরিয়ে রেখে আড্ডামুখর ক্লাব প্রাঙ্গন। অনুগামীরাও ঘুরে গেলেন ইতিউতি। কেউ কেউ আবার সোশ্যাল মিডিয়াতেই শুভেচ্ছা জানালেন প্রিয় দলকে। বারপুজোর এই লগ্নে কর্মকর্তা থেকে অনুগামীদের তো একটাই প্রার্থনা, যেন ট্রফি আসে ঘরে।

একই ছবি প্রতিবেশী ক্লাবেও। সুপার কাপের জন্য প্রায় গোটা দলই ভুবনেশ্বরে। ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে এদিন সকালে হাজির ছিলেন ফুটবলার রফিক এবং সহকারী রঞ্জন চৌধুরি। প্রথা মেনে পুজো হল সেখানেও। আই লিগ আসেনি। তাই সুপার কাপই এখন পাখির চোখ লাল-হলুদের। বারপুজোর শুভক্ষণে সমর্থক ও শিবিরের প্রার্থনা একটাই। ট্রফি জিতেই যেন শেষ হয় মরশুমটা।