সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ক্রিকেট বিশ্বে অন্যতম প্রতিষ্ঠিত এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা অস্ট্রেলিয়া বোর্ড। ভারতের বিসিসিআই (BCCI) এবং ইংল্যান্ডের ইসিবির (ECB) পরই আর্থিক স্বচ্ছলতার দিক থেকে নাম আসে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু করোনার পর লাগাতার লোকসানের মুখ দেখতে হচ্ছে অজি বোর্ডকে। ব্যতিক্রম হল না এবারও। রেকর্ড অঙ্কের আয়ের পরও লাভক্ষতির হিসাব কষতে গিয়ে ভিরমি খাচ্ছেন অজি বোর্ডের কর্তারা। কারণ হিসাব বলছে, গত মরশুমেও প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ঘাটতি রয়ে গিয়েছে তাঁদের।
গত অর্থবর্ষে ভারতের বিরুদ্ধে একটা মেগা টেস্ট সিরিজ খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। ওই পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজই ছিল সাদা জার্সিতে বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার শেষ সিরিজ। ওই সিরিজ থেকে মোটা অঙ্কের রোজগার হয়েছে অজি বোর্ডের। আবার ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন সম্প্রচার স্বত্ত্বেও ভালো রোজগার করেছে তাঁরা। যার জেরে গত অর্থবর্ষে মোটা আয় হয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার। হিসাব বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আয় হয়েছে ৪৫৩.৭ মিলিয়ন অজি ডলার। যা সর্বকালীন রেকর্ড। আগের বারের থেকে প্রায় ৫ কোটি ডলার বেশি।
সমস্যা হল, ওই একই সময়ে ব্যয়ও অনেকটা বেড়ে গিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। তার দুটি কারণ হল অস্ট্রেলিয়া গত মরশুমে প্রচুর বিদেশ সফর করেছে। যে কারণে ৭০ দিন দলকে অতিরিক্ত বিদেশ সফরে রাখতে হয়েছে। যার খরচ প্রচুর। সেই সঙ্গে ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের মার্কেটিংয়েও প্রচুর খরচ হয়েছে। সব মিলিয়ে আগের বছরের থেকে খরচ বেড়েছে ২৪ মিলিয়ন অজি ডলার। যার নিট ফল অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রায় ১১০ লক্ষ ডলার, ব্রিটিশ মুদ্রায় প্রায় ৭৩ লক্ষ ডলার এবং ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬৫ কোটি টাকা লোকসান।
প্রশ্ন উঠছে, অস্ট্রেলীয় বোর্ডেরই যদি এই হাল হয়, তাহলে অন্য ছোট বোর্ডগুলির কি হবে? ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া অবশ্য হাল ফেরাতে ভরসা রাখছে সেই রো-কো এবং টেস্ট ক্রিকেটে। সূত্রের খবর, সদ্য শেষ হওয়া ওয়ানডে সিরিজে ভালো লাভের মুখ দেখেছে তারা। আবার সামনে অ্যাশেজ। সেখান থেকেও মোটা আয়ের আশা করছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। অর্থাৎ পরের অর্থবর্ষে লাভের আশায় বুক বাঁধছে অজিরা।