Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
IND-W vs AUS-W

‘২০০ শতাংশ দিতে হবে’, বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ব্রাত্য শেফালির সামনে রোমাঞ্চের মঞ্চ

ঠিক এক বছর বাদে দেশের হয়ে খেলতে নামবেন শেফালি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ৩০, ২০২৫, ১৭:২১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ৩০, ২০২৫, ১৭:২১

options
link
‘২০০ শতাংশ দিতে হবে’, বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ব্রাত্য শেফালির সামনে রোমাঞ্চের মঞ্চ zoom

স্টাফ রিপোর্টার: শেফালি বর্মা আর ভারত-এ দু’টো শব্দ বিগত এক বছর ধরে বড় দূরে সরে যাচ্ছিল। ঝগড়ুটে প্রতিবেশীর মতো দুই শব্দের যেন কাছাকাছি থেকেও কিছুতে সহাবস্থান হচ্ছিল না। অন্তত গত সোমবার পর্যন্ত।

ক্রিকেট অদৃষ্ট বলতে পারেন। ক্রিকেট দেবতার রসিকতা বলতে পারেন। তথ্য বলছে, এক সময় ভারতের বিধ্বংসী ওপেনার শেফালি দেশের হয়ে শেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন আজ থেকে ঠিক এক বছর পূর্বে। সে অপেক্ষা বিলম্বিত হতো হয়তো। যদি না প্রতীকা রাওয়াল চোট পেয়ে যেতেন। কিন্তু কপালে লেখা থাকলে খণ্ডাবে কে? শেফালি বর্মার ভাগ্যে বিশ্বকাপের ম্যাচ লেখা ছিল যে! তা সে যতই তিনি গত এক বছর ধরে জাতীয় দলের বৃত্তের বাইরে চলে যান কেন। যতই ভালো খেলা সত্ত্বেও জাতীয় নির্বাচককুল তাঁকে দলে ফেরাতে অনীহা দেখান না কেন।
বুধবার ভারতীয় ট্রেনিংয়ে বড় চুপচাপ দেখাচ্ছিল শেফালিকে। টিম নেট শুরু করার আগে কিছুক্ষণ ‘ফুটি’ খেলল। শেফালি জুড়লেন বটে। কিন্তু সতীর্থদের সঙ্গে ঠাট্টা-ইয়ার্কির পথে গেলেন না। বরং টিমের কোচ অমল মজুমদারের বক্তব্য মন দিয়ে শুনলেন। সতীর্থ ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা যা বললেন, শুনলেন। বেশ কয়েকটা বিষয় লক্ষ্য করা হল। যেমন, ফিল্ডিং। একজন ক্রিকেটার প্রত্যাবর্তনে কতটা উদগ্র, তা সর্বাগ্রে জানান দেয় তার ফিল্ডিং। শেফালিকে দেখে মনে হল, জীবন শর্ত রেখে তাঁকে ফিল্ড করতে বলা হয়েছে বুঝি! ঠিক তেমন ব্যাটিং। শেফালিকে বরাবরই বিস্ফোরক ব্যাটার হিসেবে লোকে জানে-চেনে। কিন্তু এ দিন দেখা গেল, আক্রমণ আর রক্ষণের মধ্যে এক অভূতপূর্ব ব্যালান্স আনার চেষ্টা করছেন। বেজার চেষ্টা করছেন, কোনটা মারবেন? আর কোনটা ছাড়বেন?

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

স্বাভাবিক। আসলে দিন শেষে শেফালিও জানেন যে, আজ বৃহস্পতিবার নভি মুম্বইয়ে কেরিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটা তিনি খেলতে নামছেন। তিনি নিজে ভালো খেললে, টিম জিতলে, তাঁর কেরিয়ার উতরাইয়ের পথ থেকে আচমকা ইউ টার্ন করে ফের চড়াই ধরবে। নইলে আরও অতলে তলিয়ে যাবে। তবে কাজটা সহজ হবে না। ভুল লিখলাম। কাজটা অত্যন্ত কঠিন হবে। কারণ, বৃহস্পতিবার নভি মুম্বইয়ে যাদের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে নামতে হবে শেফালিকে, তারা সাত-সাতবারের বিশ্বজয়ী। ‘মাইটি’ অস্ট্রেলিয়া।

দেখতে গেলে, ঠিকই আছে। অদৃষ্ট আর কবেই বালখিল্য প্রতিপক্ষ সামনে পেশ করে প্লেয়ারের চারিত্রিক দৃঢ়তার পরীক্ষা নেয়? এ দিন প্রাক সেমিফাইনাল সাংবাদিক সম্মেলনে এসে শেফালি বলে গেলেন, “প্রতীকার সঙ্গে যা হয়েছে, তা খুব দুঃখজনক। কারও চোট পাওয়া কখনওই কাম্য নয়। কিন্তু ঈশ্বর আমাকে পাঠিয়েছেন নিশ্চয়ই ভালো কিছু করতে।” ঈশ্বর! গড়স প্ল্যান। বিশ্বকাপ টিমে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতীয় শিবির থেকে যখন গত সোমবার শেফালির কাছে ফোনটা যায়, তখন তিনি সুরাটে।

আর ঘটনা হল, প্রতীকার উত্থানের কারণেই বছরখানেক আগে জাতীয় দল থেকে জায়গা হারান তিনি। ‘দোষ’ শেফালিরও ছিল। আইসিসি উওমেন্স ওডিআই চ্যাম্পিয়নশিপে তাঁর যা পারফরম্যান্স ছিল, কহতব্য নয়। ১৪-টা ইনিংসে শেফালি করেছিলেন মাত্র ২৭৭ রান। ২১.৩০ গড়ে। মাত্র একটা হাফসেঞ্চুরি-সহ। স্মৃতি তখন গনগনে ফর্মে। যে কারণে শেফালির দুর্দশা আরও প্রকট হচ্ছিল। জাতীয় নির্বাচকরা ক্রমশ ধৈর্য হারাচ্ছিলেন শেফালি নিয়ে। সেই সময়ই প্রতীকার আবির্ভাব। এবং জাতীয় দলে খেলার এক বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে ডাক! যার পর শুরু হয় শেফালির সংগ্রাম। নীরবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে। ২০২৪-‘২৫ সালে শেফালির নেতৃত্বে হরিয়ানা সিনিয়র ওয়ানডে ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে যায়। যে টুর্নামেন্টে সাত ইনিংসে ৫২৭ রান করেন শেফালি। ৭৫.২৯ গড় আর দেড়শোর উপর স্ট্রাইক রেট রেখে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচক কমিটির তা মন কাড়তে পারেনি। তার পরপরই আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ ছিল। হরমনপ্রীত কৌর বিশ্রাম নিয়েছিলেন। প্রচুর নতুন প্লেয়ারকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি শেফালি বর্মা জাতীয় দলে ডাক পাননি। শোনা যায়, স্বয়ং হরমনপ্রীত কৌর সওয়াল করেছিলেন পুরনো সতীর্থের জন্য। কিন্তু লাভ হয়নি।

ধ্বস্ত হৃদয়ে আবার ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে যান শেফালি। ডব্লুপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে টুর্নামেন্টে তাঁর ১৫২ স্ট্রাইক রেটে ৩০৪ রান ভারতীয় টি-টোয়েন্টি টিমের দরজা খুলে দিলেও ওয়ানডে পারেনি। ভারতের বিশ্বকাপ দল নির্বাচনের সময়ও শেফালিকে নিয়ে দক্ষযজ্ঞ বাঁধে। একদিকে সিনিয়র প্লেয়াররা ছিলেন। শেফালির সওয়ালে। উল্টোদিকে ছিলেন নির্বাচকরা। এবং আবারও জেতেন নির্বাচকরা। এমনকী ব্যাক আপ কিপার হিসেবে নেওয়া হয় যস্তিকা ভাটিয়াকে। তিনি চোট পাওয়ার পর ডাকা হয় অসমের কিপার-ব্যাটার উমা ছেত্রীকে! শেফালি ব্রাত্যই থেকে যান। নিজেকে তিনি শেষ পর্যন্ত আবিষ্কার করেন ভারতীয় ‘এ’ টিমে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ওয়ার্ম আপ ম্যাচে। বেঙ্গালুরুতে। যে ম্যাচে ৫১ বলে ৭০ করে দেন তিনি। বেঙ্গালুরু পর্বের পর ভারত আর শেফালি, দু’জনের পথ সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যায়। হরমনপ্রীতের ভারত মিশন বিশ্বকাপে নেমে পড়ে। আর শেফালি চলে যান সিনিয়র উওমেন্স টি-টোয়েন্টি ট্রফি খেলতে। যেখানে তিনি সাত ইনিংসে করেন ৩৪১ রান। ৫৬ গড় আর ১৮২ স্ট্রাইক রেটে।
যার পর প্রতীকার চোট। যার পর সুরাটে থাকাকালীন টিম ম্যানেজমেন্টের ফোন। যার পর শেফালি বর্মার বিশ্বকাপের অন্তিম পর্বে টিমে ফিরে আসা। “বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল আমার কাছে নতুন নয়। আগেও খেলেছি। অস্ট্রেলিয়া কী করতে পারে, জানি। তবে ম্যাচটা জিততে গেলে দু’শো শতাংশ দিতে হবে আমাদের, “বলে দিয়েছেন শেফালি। শতভাগ সত্য। আজ জিততে গেলে, বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠতে গেলে, একশো নয়, দু’শো শতাংশ দিতে হবে টিমকে। দু’শো শতাংশ দিতে হবে তাঁকেও। উপায় কী? গত এক বছরে ক্রিকেট একটা বিষয় শেফালি বর্মাকে মজ্জায়-মজ্জায় বুঝিয়েছে, নিশ্চিত। সুযোগ বারবার আসে না!

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.