শুভায়ন চক্রবর্তী, লিডস: যত দূর দেখা যায়, স্রেফ সবুজ আর সবুজ। মাঠ। পিচ। সমস্ত।
লিডসের হেডিংলে পিচের কথা হচ্ছে। সোমবার সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখা গেল, পিচে ঘাস কাটার কাজকর্ম শুরু হয়েছে অল্প-বিস্তর। কিন্তু বাইশ গজের চরিত্র যেটুকু যা আন্দাজ করা গেল, তাতে সেই অল্প-স্বল্প ঘাস কাটায় কতটা কী লাভ হবে, কে জানে। কে জানে কেন মনে হচ্ছে, যে সবুজ চোখে পড়ছে, একমাত্র তাহাই সত্য। বাকি সমস্ত মিথ্যা!
ওহ্, আসল কথাটাই লেখা হয়নি। আগামী ২০ জুন থেকে এই লিডসের হেডিংলতেই শুরু হচ্ছে ভারত-ইংল্যান্ড প্রথম টেস্ট। আগামী আড়াই মাস ধরে পাঁচ টেস্টের সিরিজের যা মুখবন্ধ। যে সিরিজে এক নতুন ভারতকে দেখা যাবে। যে ভারতীয় টেস্ট টিমে কোনও রোহিত শর্মা নেই। কোনও বিরাট কোহলিও নেই। বরং টিমের নেতৃত্বে এমন একজন, যাঁকে বর্তমান ভারতীয় ক্রিকেটের ‘প্রিন্স’ বলা হলেও, লাল বলের ক্রিকেটে যিনি নিজের প্রতিভার মর্যাদা এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি দিতে পারেননি। শুভমান গিল। এবং বলাই বাহুল্য, লিডসে সবুজ পিচে গিলের ভারতকে অভ্যর্থনা করতে চলেছে বেন স্টোকসের ইংল্যান্ড!
বিলেতে ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজ অতীতে হয়েছে বহুবার। কিন্তু কখনও লিডসে সিরিজের প্রথম টেস্ট হয়েছে বলে মনে পড়ে না। লিডস শহরটা আসলে ইংল্যান্ডের উত্তরে অবস্থিত। এখানে দিনভর একটা শনশনে হাওয়া দেয়। এ দিন গিয়ে দেখা গেল, আকাশে ঈষৎ মেঘ আছে। রোদও আছে। আর আছে ওই উত্তুরে হাওয়া। যা হাড় কাঁপিয়ে চলে যাওয়ার মতো। কোনও সন্দেহ নেই, লিডস টেস্টে এই হাওয়া বোলারদের সুবিধে করে দেবে। ইংল্যান্ডে এমনিই বল ভালো রকম মুভ করে। হাওয়া দিলে তা আরও করবে। এবং পুরোদস্তুর সবুজ পিচে হাওয়া+সিম মুভমেন্ট একসঙ্গে চলতে শুরু করলে, ব্যাটারদের কতটা সমস্যায় পড়তে হবে, তা বোধহয় আলাদা করে না বললেও চলে।
নিশ্চিত ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর এ সমস্ত কিছু নিয়ে ভাববেন। যিনি সব ঠিকঠাক চললে, আজই যোগ দিচ্ছেন দলের সঙ্গে। তথ্যের খাতিরে স্মরণ করিয়ে দেওয়া যাক, মায়ের অসুস্থতার কারণে হঠাৎ ভারতে ফিরে গিয়েছিলেন গম্ভীর। জাতীয় কোচের মা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিল। এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ। তাই গম্ভীর ফিরে আসছেন। টেস্টের সময় কোচ তিনিই থাকবেন।
যাক গে, পিচে ফিরি। হেডিংলের চিফ পিচ কিউরেটর রিচার্ড রবিনসন বলছিলেন যে, তিনি চান টেস্ট ম্যাচটা পাঁচ দিন যাক। তিন দিনে টেস্ট শেষ হয়ে যাক, তা তিনি কিছুতেই চান না। সম্প্রতি লর্ডসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল সওয়া তিন দিনে শেষ হয়ে গিয়েছে। যার পর অনেকেই সন্দিহান, বিলেতে ভারত-ইংল্যান্ড টেস্ট ম্যাচগুলো আদৌ পাঁচ দিন গড়াবে কি না? “পিচে প্রথম দিকে একটু আর্দ্রতা থাকবে। কারণ, আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে, ভালো গরম থাকবে লিডস টেস্টের সময়। ঘাস আস্তে আস্তে ছাঁটা হচ্ছে। এবারের গ্রীষ্মটা খুব শুকনো যাচ্ছে ইংল্যান্ডে। তাই পিচে আমরা বেশি করে জল দিচ্ছি, যাতে খেলাটা পাঁচ দিন পর্যন্ত গড়ায়। আশা করছি, খেলাটা পাঁচ দিনেরই হবে। তিন দিনের নয়,” বলছিলেন রবিনসন। সঙ্গে যোগ করেছেন, “আশা করছি, ব্যাটার এবং বোলার, দু’জনেই এই পিচ থেকে সুবিধে পাবে। প্রথম দিকে বোলাররা সুবিধে পাবে হেডিংলে পিচ থেকে। তার পর যত সময় এগোবে, তত পিচ পাটা হতে শুরু করবে। তখন ব্যাটাররা সহজে রান করতে পারবে। প্রথম ইনিংসে যদি কোনও টিম তিনশো তুলতে পারে, তা হলে বলব, সেটা ভালো স্কোর হবে। পরের ইনিংসগুলোতে আর একটু বেশি রান উঠবে বলে মনে হয়। কারণ, পিচ তখন আর একটু সহজ হবে।”
ঘুরেফিরে যা দাঁড়াচ্ছে, তাতে হেডিংলে পিচে টস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হতে চলেছে। এবং যে টিমই টস জিতুক, তার অধিনায়কের প্রথম কথাটা কী হতে পারে সহজেই অনুমেয়।
‘উই উইল বোল ফার্স্ট!’