ইংল্যান্ড: ৩৩২ (কুক-৭১, আলি-৫০, বাটলার-৮৯)
ভারত: ১৭৪/৬ (রাহুল-৩৭, পূজারা-৩৭, কোহলি-৪৯)
ক্রিজে বিহারী (২৫*) ও জাদেজা (৮*)
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ
দীপ দাশগুপ্ত: ভারতীয় হয়ে ভারতের এ ধরনের দুর্দশার কথা লিখতে ইচ্ছে করে না। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের শেষ পর্ব চলছে। কিন্তু ভারতের দুঃখের কাহিনিতে কোনও পরিবর্তন দেখলাম না। সেই ব্যাটিং বিপর্যয়। সেই বিরাট কোহলি ছাড়া আরও কোনও ভরসার নাম না পাওয়া।
[মাঠে ধাওয়ানকে ভাঙড়া নাচতে দেখে এমন কাজও করলেন ভাজ্জি!]
বুঝতে পারছি না, পাঁচ-পাঁচটা টেস্ট ম্যাচ খেলে ফেলার পরেও কেন ইংল্যান্ডের পরিবেশ, পিচের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছে না ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। অজিঙ্ক রাহানে, চেতেশ্বর পূজারারা সেই ক্রিজে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে জিমি অ্যান্ডারসনকে খেলতে যাচ্ছে। যা কোনও দিন সম্ভব নয়। কেএল রাহুলও তাই। ক্রিজে সেট হয়ে গিয়ে এভাবে উইকেট দিয়ে আসা, মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, গত চারটে ভ্যেনুর চেয়ে ওভালে অনেক কম বল সুইং করছে। সেখানে এরকম ব্যাটিং পারফরম্যান্স সত্যি দুঃখের। আমার বক্তব্য হল, প্রথম টেস্টে এরকম হতে পারে। দ্বিতীয় টেস্টেও হতে পারে। ইংলিশ কন্ডিশন বুঝতে সময় লাগে। কিন্তু দু’মাস ইংল্যান্ডে কাটিয়ে ফেলার পরে যদি পঞ্চম টেস্টে এ জিনিস হয়, মানা যায় না। তবে শনিবার ব্যাটিংয়ের চেয়েও ভারতকে বেশি ডুবিয়েছে বোলিং। প্রথম দিন ইশান্ত শর্মা-মহম্মদ শামিরা গোটা দিন দুর্দান্ত বল করে ভারতকে শেষ সেশনে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছিল। শনিবার সেই ভারতীয় বোলিংই শেষ করে দিল। অন্তত ষাট-সত্তর রান বাড়তি করতে দিল ইংল্যান্ডকে। টেস্টের প্রথম দিন যে ভারতীয় বোলিংয়ে এত শৃঙ্খলা দেখলাম, তারাই আজ কীরকম ছন্নছাড়া বোলিং করল। প্রথম দিন ইংল্যান্ড যে অবস্থায় ছিল, সেখান থেকে খুব বেশি হলে ২৬০-২৭০-এর মধ্যে রাখা উচিত ছিল ভারতীয় বোলারদের। সেখানে ৩৩২ রান অত্যন্ত বেশি।
5th Test. 50.3: B Stokes to R Jadeja (8), 4 runs, 174/6 https://t.co/EhPQPnkoy2 #EngvInd
— BCCI (@BCCI) September 8, 2018
প্লাস, ফিল্ড প্লেসমেন্ট। বুঝলাম না, বাটলারের জন্য শুরু থেকে অত দূরে দূরে ফিল্ডার রাখা হচ্ছিল কেন? গতকাল ৬+৩ ফিল্ড নিয়ে বল করছিল ভারত। কিন্তু এদিন সেই ফিল্ড প্লেসিং দেখলাম না। উলটে বাটলার-ব্রডের জন্য ডিপ পয়েন্ট দাঁড় করিয়ে দেওয়া হল! ওভাল টেস্টের দু’টো দিনের মধ্যে ইংল্যান্ড ব্যাটিংয়ের উপর কতটা চাপের তফাত থেকে গেল, একটা উদাহরণ দিই। শুক্রবার গোটা দিন ব্যাট করে ইংল্যান্ড তুলেছে ১৯৮। আর দ্বিতীয় দিন ২৫ ওভারে তুলেছে ১০৬! প্রথম দিন ওভার পিছু আড়াই রানের বেশি তুলতে পারেননি কুকরা। এদিন ওই ২৫ ওভারে তুলেছে ওভারপিছু পাঁচ রানেরও বেশি। তার উপর অসংখ্য সিঙ্গলস দেওয়া। যা দাঁড়াচ্ছে, তাতে ভারত যদি কোনওরকমে রবিবার একশো রান যোগ করতে পারে, ম্যাচে থাকবে। নইলে? নইলে পরিষ্কার ১-৪ দেখছি!