Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মদ্রিচ ঠিক পারবেন, আশায় বুক বাঁধছে ক্রোয়েশিয়া

ফুটবল আসুক নতুন ঘরে, চাইছেন ক্রোটরা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৫, ২০১৮, ১১:২৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৫, ২০১৮, ১১:২৮

options
link
মদ্রিচ ঠিক পারবেন, আশায় বুক বাঁধছে ক্রোয়েশিয়া zoom

শিবাশিস চন্দ: বুধবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ক্রোয়েশিয়ার ঐতিহাসিক জয়ের পর লোকাল খবরের কাগজে একটা অভাবনীয় ছবি দেখলাম। দেশের রাজনীতির সব তাবড় তাবড় নাম ক্রোয়েশিয়ার জার্সি পরে এক জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন। কেউ পরেন মান্দজুকিচের জার্সি। আবার কেউ পরে আছেন রাকিতিচের নামাঙ্কিত জার্সি। এই একটা ছবি পরিষ্কার বলে দিচ্ছে রবিবারটা এই দেশে ঐতিহাসিক একটা দিন। কারণ রবিবার শেষে হয়তো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তকমা পড়ে যেতে পারে ক্রোয়েশিয়া দেশের পাশে। বিশ্বজয়ীদের সেই এলিট তালিকায় চলে আসতে পারে ক্রোয়েশিয়া।

একটা জিনিস এখনই খুব পরিষ্কার বুঝতে পারছি, ঠিক কতটা স্পিরিটেড ক্রোটরা বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে। রেজাল্ট যাই হোক না কেন, ফাইনালে ওঠার গর্বটা পুরোপুরি উপভোগ করছে। যে দিকেই চোখ যাচ্ছে লাল-সাদা জার্সিই দেখতে পাচ্ছি। পাড়ায় পাড়ায়। রাস্তাঘাটে। গাড়ির মধ্যে। দেখে মনে হচ্ছে কোনও ফ্যান্সি ড্রেস পার্টি। যেখানে সবাই একটা নির্দিষ্ট ড্রেস কোড মেনে চলছে। অনেক ফুটবল-দেশেই ফুটবলারদের ব্যানার ঝোলানোর ট্র্যাডিশন থাকে। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ায় এ রকম কিছু চোখে পড়ল না। ব্যানার বলতে একটাই দেখলাম। বেন জেলেসিচ স্কোয়ারে একটা মোটিভেশনাল কোটের ব্যানার। যেখানে লেখা- ‘ফাইনালে জিতব। আত্মসমর্পণ করব না।’

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
[ফরাসি নেই, ফাইনাল ঘিরে ফরাসি সুগন্ধ আছে চন্দননগরে]

দেশের নবীন থেকে প্রবীণ সবার মুখেই এখন একটাই নাম-লুকা মদ্রিচ। যাঁদের সঙ্গে কথা বলছি সবার একটাই বিশ্বাস, রবিবার মদ্রিচই আমাদের রূপকথা তৈরি করতে সাহায্য করবেন। মদ্রিচ কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার এক গ্রামে বড় হয়েছেন। ভেলেবিট পাহাড়ের দক্ষিণ দিকে একটা গ্রাম আছে। জ্ল্যাটন অব্রিভাকি তার নাম। সেখানেই বড় হয়েছেন মদ্রিচ। ফাইনালের আগে সেই গ্রাম থেকে প্রায় অনেকে এসেছেন জাগ্রেবে। বেন জেলেসিচ স্কোয়ারে জায়ান্ট স্ক্রিনে নিজেদের ঘরের নায়কের খেলা দেখবেন। সেই গ্রামের এক বাসিন্দার মতে যুদ্ধের আবহে বড় হয়েছেন বলেই মদ্রিচ এত সুন্দর নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলকে। কারণ ওর মধ্যে সেই লড়াকু ব্যাপারটা রয়ে গিয়েছে। হয়তো সেই গ্রামে এখন আর আসেন না। কিন্তু দেশে অনেক চ্যারিটি করেন। বিশেষ করে দুঃস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য। ক্রোয়েশিয়া মদ্রিচকে শুধু বিশ্বকাপ হাতেই দেখতে চায় না। বরং ব্যালন ডি’ওর তুলতেও দেখতে চায়। কয়েকজন

তরুণ ক্রোট ভক্ত যেমন বললেন, “ক্রোয়েশিয়া জিতুক কি না জিতুক। ফাইনালে আমাদের ওঠানোর জন্য মদ্রিচকেই ব্যালন ডি’ওর দেওয়া উচিত।” রাস্তাঘাটের মতো অবস্থা পাবগুলোতেও। সব সময় আলোচনা চলছে ফুটবল নিয়ে। কয়েকটা পাব তো আবার টিভিও বসিয়ে নিয়েছে। যাতে রবিবার গ্র্যান্ড ফাইনাল মিস না হয়ে যায়। কয়েকজন আবার স্পেশ্যাল মেনুও তৈরি করেছেন। আবার কয়েকটা পাব রবিবার ড্রিঙ্কস ফ্রি করে দেবে যদি ক্রোয়েশিয়া চ্যাম্পিয়ন হয়। অধিকাংশ পাবগুলোর টিভিতে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের হাইলাইট দেখানো হচ্ছে বারবার। আর প্রতিটা টেবলেই যেন একজন করে ফুটবল বিশেষজ্ঞ। কেউ কেউ ভাঙা ইংরেজিতে আমায় বুঝিয়ে দিচ্ছেন দালিচের স্ট্র্যাটেজি কী হতে পারে।

[বিশ্বকাপের ফাইনালে ফরাসি বিঠোভেন বনাম বলকান মোৎজার্টের লড়াই]

জার্সি বিক্রেতাদের জন্য আবার এই আবহে হঠাৎ যেন বসন্ত এসে হাজির। জার্সি শেষ হয়ে যাচ্ছে কয়েক মিনিটে। আর জার্সির বাজারে লড়াই চালাচ্ছেন মদ্রিচ আর পেরিসিচ। মদ্রিচ একটু এগিয়ে আছেন। দু’একজন বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানলাম, মদ্রিচের সবচেয়ে বেশি জার্সি বিক্রি হয়েছে। পেরিসিচের হোমটাউন স্প্লিটেও গিয়েছিলাম। সেটা আবার সমুদ্রের পাশে। পেরিসিচের ফিটনেস নিয়ে সবার মধ্যে একটা আতঙ্ক আছেই রবিবার ফাইনালের আগে। কিন্তু তা বাদে গোটা দেশই স্বপ্ন দেখছে অবিশ্বাস্য কিছুর। আসলে এরা চাইছে ফুটবল আসুক নতুন ঘরে!

(লেখক ভারতের এক জনসংযোগকারী সংস্থার কর্মী)

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.