রোমারিও: ইউরোপ বনাম লাতিন আমেরিকার একজোড়া রোমাঞ্চকর যুদ্ধ দেখার পর শনিবার বিশ্বকাপে অন্য কিছু দেখার পালা এবার। কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় রাতটা পুরোপুরি ইউরোপিয়ানদের ব্যাপার-স্যাপার। যেখানে ইংল্যান্ড-সুইডেন এবং ক্রোয়েশিয়া-রাশিয়া, দু’টো ম্যাচেই রীতিমতো ট্যাকটিক্যাল হানাহানি দেখার আশা করছি।
বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে পৌঁছে টিমগুলোর মধ্যে তফাত ক্রমশ কমতে থাকে। গ্যারেথ সাউথগেটের অধীনে ইংল্যান্ড বেশ ভাল একঝাঁক ফুটবলারের দল। সুইডেন আবার টুর্নামেন্টের অন্যতম নাছোড়বান্দা টিম। দর্শনীয় ফুটবল খেলে না? হ্যাঁ। বড্ড বেশি রক্ষণাত্মক? এ বারও আমার উত্তর, হ্যাঁ। কিন্তু ফুটবল ব্যাপারটাই হল, তোমার হাতে যেরকম মালমশলা আছে ঠিক সেই অনুসারে খেলতে হয়। এবং এক্ষেত্রে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা দশে দশ পাবে। নিজেদের যেমন ক্ষমতা তার সম্পূর্ণ ব্যবহার করছে এ বারের বিশ্বকাপে।
[ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধেও রুশদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন দুই ‘ব্যাড বয়’]
আমরা সুপারস্টার সমৃদ্ধ অনেক দলকে বিশ্বকাপের শেষ আট পর্যন্ত এগোতে দেখিনি। কারণ, তারা নিজের টিমের অসাধারণ ব্যক্তিগত প্রতিভারও ঠিকমতো জ্বলে ওঠার জন্য সতীর্থদের কাছে থেকে যে সাহায্যের দরকার পড়ে, সেরকম দলগত খেলাটা খেলতে পারেনি। সুইডেন বিশাল প্রতিভাবান দল না হতেই পারে। কিন্তু ওরা নিজেদের যেটা শক্তি তার উপর একশোভাগ ভরসা রেখে একটা ডিফেন্সিভ ইউনিট হিসেবে খেলছে। বিপক্ষ বল পজেশনে অনেক এগিয়ে থাকলেও ওদের তাতে কিছু যায়-আসে না। সুইডেন নিজেরা সারাক্ষণ জমাট থাকে। আর সুযোগ বুঝে, পারলে খেলার বিপরীত গতির বিরুদ্ধে আচমকা কাউন্টারে বিপক্ষকে ভয়ংকর ধাক্কা মারে। ওদের এই স্ট্র্যাটেজি এখনও পর্যন্ত কাজে দিয়েছে। যদিও আমার মত হচ্ছে, ইংল্যান্ডের মতো ভাল অ্যাটাকিং লাইনের বিরুদ্ধে সুইডেনের অত নিচের থেকে ডিফেন্স করা উচিত নয়। হ্যারি কেন-রা তাতে আজ বিপক্ষের আরও বেশি ঘাড়ে চেপে বসার সুযোগ পেয়ে যাবে।
[দুনিয়া কাঁপাচ্ছে ইউরোপের পাওয়ার ফুটবল, ফের প্রমাণিত রাশিয়া বিশ্বকাপে]
বিশ্বকাপের শুরুতে ইংল্যান্ড ফেভরিটদের ব্র্যাকেটে ছিল না। কিন্তু ওরা প্রতিটা ম্যাচে প্রয়োজনীয়তার গুরুত্ব যেমন বুঝেছে। তেমনই তীক্ষ্ম আগ্রাসনী মনোভাব দেখিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে এসেছে। আগের ম্যাচে কলম্বিয়াকে হারাতে ইংল্যান্ড ফুটবলারদের ঘাম-রক্ত ছুটে গিয়েছে বটে। কিন্তু একইসঙ্গে বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এত দিনে টাইব্রেকার-আতঙ্ককে জয় করতে পারায় ইংল্যান্ড শনিবারের কোয়ার্টার ফাইনালে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসীও থাকবে। ইংল্যান্ডের মাঝমাঠের একটা আলাদা জৌলুস আছে। আর ওদের আক্রমণগুলো দু’টো উইং থেকেই দারুণ সাহায্য পাচ্ছে। হ্যারি কেন এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে ফর্মে থাকা স্ট্রাইকার। কিন্তু আজ ইংল্যান্ড অধিনায়কের কঠিন পরীক্ষা নেবে সুইডেন ডিফেন্স। ওরা এ ধরনের আক্রমণ রুখতে সদা প্রস্তুত। সুইডেনকে ওদের অনভ্যস্ত কোনও পরিকল্পনায় খেলতে বাধ্য করতে হলে ইংল্যান্ডকে প্রথমে গোল করতে হবে। নইলে খেলা যত গড়াবে, সুইডেনের ডিফেন্সিভ গেম আরও বেশি দানা বেঁধে শেষমেশ এমন এক দেওয়াল হয়ে উঠবে যেটা ভাঙা যে কারও পক্ষেই অসম্ভব।