সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গুয়াহাটি নয়। যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল হবে যুবভারতীতেই। খবরটা পেয়েই লাফিয়ে উঠেছিলেন মানিকতলার যুবকটি। অনলাইনে টিকিট কেটে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে হাতে যেন স্বর্গ পেয়েছিলেন। ফুটবলকে যেদিন থেকে ভালবেসেছেন, সেদিন থেকে ব্রাজিলকেই চিনতেন। তাই গালে ব্রাজিলের পতাকা এঁকে হাসি মুখে প্রবেশ করেছিলেন যুবভারতীতে। সামনে ভাসছিল কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির বিরুদ্ধে পাওলিনহোদের লড়াইটা। কিন্তু এদিন যেন সব কেমন ঘেঁটে গেল। কোথায় সেই জয়ের খিদে। কোথায় সেই গতিময় সাম্বা ছন্দ। এক ব্রিউস্টার আকাশের উজ্জ্বল তারকাদের সজোরে টেনে মাটিতে ফেলে দিয়েছে। আর তাতেই জোর আঘাত লেগেছে বাঙালির আবেগে। গ্যালারি থেকে বেরনোর সময় তাই যুবকের চোখ থেকে ঝর ঝর করে জল পড়ছে। তখনও যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না ইংল্যান্ডের কাছে পরাস্ত হয়েছে তাঁর প্রিয় দল।
বুধ-সন্ধেয় এমন উদাহরণ একটা ছিল না। ছিল হাজার হাজার। ইংল্যান্ড কোচ স্টিভ কুপারও তো মজা করে বলছিলেন, “৬৬,৮৮১ জন দর্শকের মধ্যে তো মনে হল ৬০ হাজারই ব্রাজিল সমর্থক। আমাদের কি এক-আধটা ছিল?” সমর্থকদের হতাশার কথা শুনে দুঃখিত পাওলিনহোও। তার গোলের প্রত্যাশায় বুক বেঁধেছিল হলুদ-সবুজ হয়ে ওঠা যুবভারতী। কিন্তু শেষমেশ মন ভেঙেছে। সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় মন খারাপ তারও। মাঠ ছাড়ার সময় ব্রাজিল ফরোর্য়াড বলল, “প্রত্যাশার থেকেও বেশি সমর্থন পেয়েছি। সেই জন্যই আরও দুঃখিত। তবে আপাতত তৃতীয় স্থানের ম্যাচের মনোযোগ দিতে চাই।” শুধু সমর্থকরা তো নয়, ম্যাচ শেষ হতেই মাঠে শুয়ে পড়ে কাঁদছিল লিঙ্কনও। নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছনো গেল না বলেই চূড়ান্ত হতাশ হয়ে পড়েছিল। তবে সফরের ক্লান্তিকে দায়ি করছে না।
তবে ব্রাজিল খুদেদের ভেঙে পড়তে দিচ্ছেন না কোচ কার্লোস আমাদিউ। চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে ছিটকে গেলেও এখনও একটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বাকি। তাহলে ড্রেসিং রুমের অবস্থা কী? অ্যালান সেখান থেকে বেরিয়ে আসতেই এমন প্রশ্নের মুখে পড়ল। চোখ মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। বলল, “খারাপ তো লাগছেই। তবে সবাই পরের ম্যাচ নিয়েই এখন ভাবতে চাইছি।” ব্রাজিল আর বাঙালির আবেগ মিলেমিশে যুবভারতী হয়ে উঠেছিল মারাকানা। তৃতীয় স্থান দখল করে বাঙালির ফুটবলপ্রেমকে সম্মান জানিয়েই তাই শহর ছাড়তে চান আমাদিউরা।