স্টাফ রিপোর্টার: কলকাতা ময়দানে মাঠের অধিকার মরশুম অনুযায়ী বদলে যায়। কখনও তা থাকে ফুটবলের হাতে, কখনও হকি। আবার কখনও চলে ক্রিকেট। তবে তিন প্রধানের মাঠে মূলত ফুটবল আর হকিই হয়। হকির মরশুম শেষ হওয়ার পর ফুটবলের জন্য নতুন করে মাঠ তৈরিতে অনেকটা সময় লাগে। তার মধ্যেই কলকাতা লিগের বেশ কয়েকটা ম্যাচ হয়ে যায়। ঘরের মাঠ না পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন স্টেডিয়ামে লিগের ম্যাচ খেলে তিন প্রধান।
আগামী বছর থেকে সেই সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হওয়ার বার্তা দিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বুধবার ক্লাবের প্রাক্তন সচিব প্রয়াত দীপক দাসের (পল্টু) জন্মদিনে ইস্টবেঙ্গলের উদ্যোগে একটি অত্যাধুনিক অ্যাম্বুল্যান্সের উদ্বোধন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, “আমি হকি বেঙ্গলের সঙ্গে কথা বলেছি। তিন প্রধান ও হকি বেঙ্গলকে নিয়ে আলোচনা করব। পরের বছর থেকে যাতে তিন প্রধানের মাঠ ছাড়াই হকি হয়, সেটা নিয়ে কথা বলব।” ক্রীড়ামন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ইস্টবেঙ্গল।
অন্যদিকে, লাল-হলুদের অ্যাম্বুল্যান্স চালু প্রসঙ্গে ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, “ইস্টবেঙ্গল অতীতকে সম্মান দেয়। তাই আজ পল্টুদার জন্মদিনে একটা অ্যাম্বুল্যান্স চালু করল। ইস্টবেঙ্গল ক্লাব শুধু ফুটবলে সীমাবদ্ধ নয়। ইস্টবেঙ্গল ফুটবলের উর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন পদক্ষেপ করছে। এই প্রয়াস জারি থাকুক। ফুটবলের সঙ্গে মানবতা যুক্ত হোক। সেই মানবতা দিয়ে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব তার মশাল জ্বালিয়ে রাখুক।” এদিন ক্রীড়ামন্ত্রী নিজে অবশ্য এদিন উদ্বোধন করেননি। বরং এগিয়ে দিয়েছেন ইস্টবেঙ্গলের সহ-সভাপতি কল্যাণ মজুমদারকে। যা নিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রীর বক্তব্য, অগ্রজ হিসাবেই কল্যাণ মজুমদারকে এই সম্মান দিয়েছেন তিনি।
ইস্টবেঙ্গল ক্লাব সূত্রে খবর, অত্যাধুনিক এই অ্যাম্বুল্যান্স সকলেই প্রয়োজনমতো বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন। যা শুনে লাল-হলুদ কর্তাদের প্রতি ক্রীড়ামন্ত্রীর পরামর্শ, ময়দানের সব ক্লাবে পোস্টার করে এই অ্যাম্বুলেন্স পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হোক। তাহলে সবার সুবিধা হবে। এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সভাপতি মুরারিলাল লোহিয়া, সচিব রূপক সাহা, কর্তা দেবব্রত সরকাররা। ছিলেন প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, অতনু ভট্টাচার্য, বিকাশ পাঁজি, প্রশান্ত চক্রবর্তী, নাজিমুল হক, সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রাত্তন ক্রীড়াবিদরাও।