সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: তিনি ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়িকা। ব্যাট হাতে যিনি বাইশ গজে ঝড় তোলেন। সেই হরমনপ্রীত কৌর এবার অমসৃণ উইকেটে একপ্রকার মুখ থুবড়েই পড়লেন। জানা যাচ্ছে, নিজের ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট অফ পুলিশের (ডিএসপি) পদ খোয়াতে চলেছেন ভারতীয় তারকা ব্যাটসম্যান।
ভারতীয় মহিলা দলে খেলার সূত্রেই পাঞ্জাব পুলিশে চাকরি পেয়েছিলেন পাঞ্জাবের যুবতী। গত বছর মহিলা বিশ্বকাপে ভারতের চূড়ান্ত সাফল্যের পরই মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দর সিং তাঁকে ডিএসপির পদে নিযুক্ত করেছিলেন। চলতি বছর পয়সা মার্চ পাঞ্জাব পুলিশের ডিএসপি পদে যোগ দিয়েছিলেন হরমনপ্রীত। কিন্তু পুলিশ জানাচ্ছে, হরমনপ্রীত কর্মক্ষেত্রে নিজের ডিগ্রির যে সমস্ত শংসাপত্র জমা দিয়েছিলেন সেগুলি আসলে ভুয়ো। আর এই অভিযোগের ভিত্তিতেই চাকরি খোয়াতে পারেন তিনি।
[ইংল্যান্ডের আবহাওয়া আর বাটলারই চিন্তা টিম ইন্ডিয়ার]
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে পাঞ্জাব পুলিশের তরফে। সঙ্গে এও বলা হয়, গ্র্যাজুয়েশনের জাল শংসাপত্র দেওয়ার কারণে তাঁকে চাকরিতে রাখা সম্ভব হবে না। ডিজিপি এম কে তিওয়ারিও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মীরাটের চৌধুরি চরণ সিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন পাসের শংসাপত্র কর্মক্ষেত্রে জমা দিয়েছিলেন হরমনপ্রীত। কিন্তু সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, সেখানে ওই সার্টিফিকেটের কোনও নম্বরই রেজিস্টার করা নেই। বিষয়টি এরপর রাজ্য সরকারকে জানানো হয়। এর বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ারই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু গোটা ঘটনায় কী প্রতিক্রিয়া ভারতীয় ব্যাটসম্যানের? এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে হরমনপ্রীত বলেন, “আমি জানি না এসব আপনাদের কে বলেছে। এরকম কোনও ব্যাপার নেই।” পালটা জানতে চাওয়া হয়, তিনি কোন বছর ও কী বিষয় নিয়ে স্নাতক হয়েছিলেন? তবে এর কোনও উত্তর দিতে চাননি তিনি। শুধু বলেন, “আমার ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে কথা না বলে আমি কিছু বলব না।” শুধুমাত্র ক্রিকেটের জন্যই ডিএসপি পদ দেওয়া হয়েছিল হরমনপ্রীতকে। কিন্তু সেই পদে থাকার শিক্ষাগত যোগ্যতা তাঁর নেই। আর সেই কারণেই চাকরি খোয়াতে হবে তাঁকে। তবে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারলে ফের সেই পদের জন্য তিনি আবেদন করতেই পারেন বলে জানাচ্ছে পুলিশ।
[‘বড্ড নাটক করে ছেলেটা’, জয়ের কারিগর হয়েও শুধু সমালোচিতই হবেন নেইমার?]
তবে এই প্রথমবার নয়, এর আগে পাঞ্জাব পুলিশের ডিএসপি পদ দেওয়া হয়েছিল কমনওয়েলথে সোনাজয়ী মনদীপ কৌরকে। তিনিও ডিগ্রির যেসব নথি জমা দিয়েছিলেন, তা জাল বলেই পরে জানতে পেরেছিল পুলিশ।